রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের এক অনন্য সময়। এ মাসে প্রতিদিনের রোজা শুরুর আগে শেষ রাতের খাবার, অর্থাৎ সেহরি গ্রহণ করা শুধু একটি খাবারের সময় নয় বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও বরকতময় আমল।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, আগের অনেক উম্মতও রোজা পালন করত। তবে ভোররাতে সেহরি গ্রহণের এই বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে সেহরি খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এতে বরকতের কথা ঘোষণা করেছেন। তাই সামান্য কিছু হলেও সেহরি খাওয়া সুন্নত হিসেবে বিবেচিত।
সেহরি কেবল শারীরিক শক্তি জোগায় না; এটি রোজার প্রস্তুতির একটি আধ্যাত্মিক পর্ব। শেষ রাতের নিস্তব্ধতায় ইবাদত, দোয়া ও নিয়তের মাধ্যমে একজন মুসলমান নতুন দিনের রোজার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন।
সেহরির পর রোজার নিয়ত
রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত অপরিহার্য। নিয়ত মূলত অন্তরের দৃঢ় সংকল্প, যা মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়; তবে অনেকেই শিক্ষামূলক ও অনুশীলনের সুবিধার্থে দোয়ার মাধ্যমে তা প্রকাশ করেন।
সেহরি শেষ করার পর প্রচলিত নিয়তটি হলো-
আরবি উচ্চারণ:
“নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।”
বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসের তোমার নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। তুমি তা কবুল করো; নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
নিয়তের মূল তাৎপর্য
ইসলামে প্রতিটি আমলের ভিত্তি নিয়ত। রোজার ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। সেহরি খাওয়ার পর অন্তরে দৃঢ়ভাবে রোজা রাখার সংকল্প করাই যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা বান্দার অন্তরের অবস্থা জানেন তাই আন্তরিকতাই এখানে মুখ্য বিষয়।
আধ্যাত্মিক বার্তা
সেহরি কেবল একটি খাবার নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রস্তুতি। শেষ রাতের বরকতময় সময়ে ইবাদত, ক্ষমা প্রার্থনা ও রোজার নিয়তের মাধ্যমে দিনটি শুরু করলে রোজা আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
রমজানের প্রতিটি সেহরি হোক আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের নতুন সুযোগ।
দৈনিক টার্গেট 












