একজন মুসলিমের শেষ বিদায়ী উপদেশ ও করণীয়

এক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ওসিয়ত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ২৭১ বার পঠিত হয়েছে

জীবন ক্ষণস্থায়ী মৃত্যু এক অবধারিত সত্য। এই অমোঘ বাস্তবতাকে সামনে রেখে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান জীবদ্দশাতেই তার প্রিয় পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওসিয়ত করে যেতে চান, যা মৃত্যুর পর তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং পরিবারের জন্যও হবে দিকনির্দেশক।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তিনি তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে গেছেন মৃত্যুর সংবাদ শোনামাত্র “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়তে হবে, কারণ প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই দুনিয়া ছাড়তে হবে। কোনো অবস্থাতেই তার মৃত্যুতে বিলাপ, মাতম কিংবা উচ্চস্বরে কান্নাকাটি যেন না হয় কারণ এসব ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর স্পষ্ট নির্দেশনার বিরুদ্ধে যায়।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার মৃত্যুকে কেউ অকাল মৃত্যু বলবেন না। আল্লাহর নির্ধারিত রিজিক ভোগ করে, নির্ধারিত সময়েই তিনি পৃথিবী ছাড়বেন। মৃত্যুর পর সমাজের প্রচলিত অনেক বিদ‘আত কর্ম যেমন চল্লিশা, কুলখানি বা মিলাদ অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে পরিবারকে বিরত থাকতে বলেছেন। বরং ইসলামি রীতি অনুযায়ী জানাজায় অংশগ্রহণ করে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।

পরিবারের প্রতি নির্দেশনা হিসেবে তিনি বলেছেন, তার লাশ যেন মাহরাম ব্যতীত অন্য কাউকে না দেখানো হয় এবং বিশ্বস্ত ও দ্বীনদার মানুষের মাধ্যমে যথাযথভাবে গোসল করানো হয়। দাফনপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ইসলামি নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে, কোনো সামাজিক চাপ বা রীতি অনুসরণ করা যাবে না। দাফনের পর উপস্থিত সবাইকে তার জন্য বিশেষ দোয়া করতে বলেছেন যাতে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পেতে পারেন এবং মুনকার-নাকিরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হন।

তারপরও তিনি পরিবারের প্রতি অনুরোধ করেছেন, মৃত্যুর পর তার নামে সাদকাহ-জারিয়া চালু রাখার জন্য। পূর্বের কোনো সাদকাহ-জারিয়া থাকলে সেটির যত্ন নেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করতে বলেছেন, আর কারো কাছে কিছু পাওনা থাকলে তা জীবিত অবস্থায়ই বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। না হলে পরিবারের কাছে চাইতে বলেছেন তাও না হলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে বলেছেন।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার মৃত্যুর পর যেন কোনোভাবে তার ছবি কোথাও প্রচার না হয়, বাড়ির দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা না হয় এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও তার সব ছবি মুছে ফেলার জন্য পরিবারের প্রতি অনুরোধ করেছেন।

অন্তিম অনুরোধ হিসেবে তিনি বলেছেন, সবাই যেন তার জন্য নিয়মিত দোয়া করে, গীবত না করে কারণ গীবত মৃত ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়। একইসঙ্গে সবাইকে মৃত্যুর শিক্ষা নিয়ে জীবনে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিশেষে তিনি আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা করেছেন যেন আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ঈমানের সহিত, ক্বলিমা উচ্চারণের মাধ্যমে শাহাদাতের মর্যাদার মৃত্যু দান করেন।

এমন সুস্পষ্ট ওসিয়ত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মৃত্যু শুধু বিদায় নয় আত্মশুদ্ধি, আত্মসমর্পণ ও আখেরাতের জন্য প্রস্তুতির সর্বোত্তম উপলক্ষ। এই দোয়া ও নির্দেশাবলী শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, প্রতিটি মুসলমানের জন্যই শিক্ষণীয় ও অনুসরণীয়।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন

দৈনিক টার্গেট

আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে।

ফলো করুন

একজন মুসলিমের শেষ বিদায়ী উপদেশ ও করণীয়

এক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ওসিয়ত

প্রকাশ: ১০:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

জীবন ক্ষণস্থায়ী মৃত্যু এক অবধারিত সত্য। এই অমোঘ বাস্তবতাকে সামনে রেখে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান জীবদ্দশাতেই তার প্রিয় পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওসিয়ত করে যেতে চান, যা মৃত্যুর পর তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং পরিবারের জন্যও হবে দিকনির্দেশক।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তিনি তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে গেছেন মৃত্যুর সংবাদ শোনামাত্র “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়তে হবে, কারণ প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই দুনিয়া ছাড়তে হবে। কোনো অবস্থাতেই তার মৃত্যুতে বিলাপ, মাতম কিংবা উচ্চস্বরে কান্নাকাটি যেন না হয় কারণ এসব ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর স্পষ্ট নির্দেশনার বিরুদ্ধে যায়।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার মৃত্যুকে কেউ অকাল মৃত্যু বলবেন না। আল্লাহর নির্ধারিত রিজিক ভোগ করে, নির্ধারিত সময়েই তিনি পৃথিবী ছাড়বেন। মৃত্যুর পর সমাজের প্রচলিত অনেক বিদ‘আত কর্ম যেমন চল্লিশা, কুলখানি বা মিলাদ অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে পরিবারকে বিরত থাকতে বলেছেন। বরং ইসলামি রীতি অনুযায়ী জানাজায় অংশগ্রহণ করে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।

পরিবারের প্রতি নির্দেশনা হিসেবে তিনি বলেছেন, তার লাশ যেন মাহরাম ব্যতীত অন্য কাউকে না দেখানো হয় এবং বিশ্বস্ত ও দ্বীনদার মানুষের মাধ্যমে যথাযথভাবে গোসল করানো হয়। দাফনপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ইসলামি নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে, কোনো সামাজিক চাপ বা রীতি অনুসরণ করা যাবে না। দাফনের পর উপস্থিত সবাইকে তার জন্য বিশেষ দোয়া করতে বলেছেন যাতে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পেতে পারেন এবং মুনকার-নাকিরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হন।

তারপরও তিনি পরিবারের প্রতি অনুরোধ করেছেন, মৃত্যুর পর তার নামে সাদকাহ-জারিয়া চালু রাখার জন্য। পূর্বের কোনো সাদকাহ-জারিয়া থাকলে সেটির যত্ন নেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করতে বলেছেন, আর কারো কাছে কিছু পাওনা থাকলে তা জীবিত অবস্থায়ই বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। না হলে পরিবারের কাছে চাইতে বলেছেন তাও না হলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে বলেছেন।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার মৃত্যুর পর যেন কোনোভাবে তার ছবি কোথাও প্রচার না হয়, বাড়ির দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা না হয় এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও তার সব ছবি মুছে ফেলার জন্য পরিবারের প্রতি অনুরোধ করেছেন।

অন্তিম অনুরোধ হিসেবে তিনি বলেছেন, সবাই যেন তার জন্য নিয়মিত দোয়া করে, গীবত না করে কারণ গীবত মৃত ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়। একইসঙ্গে সবাইকে মৃত্যুর শিক্ষা নিয়ে জীবনে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিশেষে তিনি আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা করেছেন যেন আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ঈমানের সহিত, ক্বলিমা উচ্চারণের মাধ্যমে শাহাদাতের মর্যাদার মৃত্যু দান করেন।

এমন সুস্পষ্ট ওসিয়ত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মৃত্যু শুধু বিদায় নয় আত্মশুদ্ধি, আত্মসমর্পণ ও আখেরাতের জন্য প্রস্তুতির সর্বোত্তম উপলক্ষ। এই দোয়া ও নির্দেশাবলী শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, প্রতিটি মুসলমানের জন্যই শিক্ষণীয় ও অনুসরণীয়।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন