বর্তমান যুগে বিনোদন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিনেমা, নাটক ও মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে মানুষ যেমন আনন্দ পায়, তেমনি এগুলোর প্রভাব সমাজেও গভীরভাবে পড়ে। তবে এসব মাধ্যম নিয়ে ইসলাম কী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে-এ নিয়েই চলমান বিতর্কের শেষ নেই।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মূলনীতি পরিষ্কার-যে কাজ আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনে, তা বর্জন করতে হবে। ধর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, সিনেমা বা নাটক নিজে হারাম নয়, বরং বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার ধরন-ই নির্ধারণ করে সেটি বৈধ না অবৈধ।
একজন আলেম বলেন, “যদি কোনো নাটক বা সিনেমা মানুষকে নৈতিকতা, সত্যবাদিতা ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়, তাতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু যেখানে অশ্লীলতা, প্রেম-প্রণয় বা নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা থাকে-সেটি ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।”
কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অশ্লীলতার কাছেও যেয়ো না-তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন।” (সূরা আনআম: ১৫১)
ধর্ম বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, ইসলাম জ্ঞান, শিক্ষা ও নৈতিকতার প্রচারকে উৎসাহিত করে। তাই ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক নাটক, ঐতিহাসিক ধারাবাহিক বা সমাজ সংস্কারমূলক সিনেমা তৈরি করা যেতে পারে। তবে সেই কাজে পর্দা, আচরণ ও ভাষা অবশ্যই শরিয়তসম্মত হতে হবে।
অন্যদিকে, মিউজিক ভিডিও ও নাচ-গান নিয়ে বেশিরভাগ আলেম একমত যেসব ভিডিওতে বাদ্যযন্ত্র, অশ্লীল পোশাক বা হারাম দৃশ্য ব্যবহার হয়, তা দেখা ও প্রচার করা উভয়ই পাপের কাজ।
তবে ইসলামি নাশিদ বা বাদ্যবিহীন গানের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যদি তা আল্লাহর স্মরণ ও নৈতিক বার্তা বহন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিনোদন হারাম নয়, কিন্তু “বিনোদনের নামে ধর্ম ও নৈতিকতার সীমা লঙ্ঘন করাই আসল সমস্যা।”
তাদের মতে, মুসলমানদের উচিত এমন মাধ্যম বেছে নেওয়া যা মানুষকে ভালো দিকে আহ্বান করে, সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়তা করে।