০৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এল যেভাবে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
  • ১৩ বার পঠিত

মুসলমানের সব কাজ ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে শুরু করা উচিত। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ আরবি বাক্যবন্ধ। এর অর্থ, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে (শুরু করছি)। এ বাক্যে ‘শুরু করা’ ক্রিয়াটি উহ্য। এর উদ্দেশ্য যেকোনো ‘কাজ’ আল্লাহর নামে আরম্ভ করা।

‘নিশ্চয় এটা (চিঠি বা বার্তা) সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।’ (সুরা নামল, আয়াত: ৩০)

‘নিশ্চয় এটা (চিঠি বা বার্তা) সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।’ (সুরা নামল, আয়াত: ৩০)

মুফতি জাকারিয়া হারুন

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বরকতের বাক্য। এ বাক্য পাঠে মহান আল্লাহ অফুরন্ত রহমত, বরকত দান করেন। ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্যগুলোর একটি। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়েই পবিত্র কোরআন শরিফের ১১৪টি সুরার মধ্যে নবম সুরা তাওবা ছাড়া অন্য বাকি ১১৩টি সুরা শুরু করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’

পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবা ছাড়া সব সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লিপিবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া হযরত নুহ (আ.)–কে জাহাজে আরোহণের আদেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন,

وَ قَالَ ارۡکَبُوۡا فِیۡهَا بِسۡمِ اللّٰهِ مَ‍‍جۡؔرٖىهَا وَ مُرۡسٰىهَا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ

তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহণ করো আল্লাহর নামে। এর চলা ও থামার (নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ)। (সুরা হুদ, আয়াত: ৪১)।

হযরত সুলাইমান (আ.)-এর ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,

اِنَّهٗ مِنۡ سُلَیۡمٰنَ وَ اِنَّهٗ بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

নিশ্চয় এটা (চিঠি বা বার্তা) সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।’(সুরা নামল, আয়াত: ৩০)

হাদিসে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’

বিসমিল্লাহ একটি শক্তিশালী আমল। এর মাধ্যমে শয়তানের কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। যাবতীয় অকল্যাণ ও অনিষ্ঠতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আবু মুলাইহ থেকে বর্ণিত, তিনি একজন সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একবার নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে তার আরোহীর পেছনে বসা ছিলাম। এমন সময় আরোহী পা ফসকে পড়ে গেল। তখন আমি বললাম, শয়তান ধ্বংস হোক। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘শয়তান ধ্বংস হোক এরূপ বলো না, কেননা এতে সে নিজেকে খুব বড় মনে করে এবং বলে আমার নিজ শক্তি দ্বারা এ কাজ করেছি; বরং এরূপ মুহূর্তে বলবে ‘বিসমিল্লাহ।’ এতে সে অতি ক্ষুদ্র হয়ে যায়, এমনকি মাছিসদৃশ হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৯৭৮২)

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে প্রথম অহি নাজিলের সময়ও এ উত্তম বাক্য পড়ানো হয়েছিল। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘হজরত জিবরাইল (আ.) সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তা হচ্ছে জিবরাইল (আ.) বলেন, হে মুহাম্মদ! আপনি আশ্রয় চান। মুহাম্মদ (সা.) বলেন, আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর জিবরাইল (আ.) বলেন, হে নবী! আপনি বলুন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।’ (তাফসির ইবনে কাসির : পৃষ্ঠা : ২৬৩)

চিঠি-পত্রে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’

চিঠি-পত্রে প্রথম বিসমিল্লাহ লিখেছেন হযরত সুলাইমান (আ.)। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম জীবনে ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ লিখতেন, এরপর কিছুদিন ‘বিসমিল্লাহির রহমান’ লিখেছেন। সর্বশেষ সুরা নামলে বিসমিল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাক্য নাজিল হওয়ার পর থেকে তিনি তা লেখারই প্রচলন করেন।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমকালীন রাজা-বাদশাহদের কাছে বিসমিল্লাহ লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন। হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্রেও পুরো বিসমিল্লাহ লিখতে আদেশ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাফেরদের আপত্তির কারণে পরবর্তীতে ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ লেখা হয়। (তাফসিরে রূহুল মাআনি খণ্ড ১, পৃষ্ঠা. ৮)

পৃথিবীর ইহিহাসে প্রথম লিখিত মদিনার সনদেও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুরাটা লেখা হয়েছিল। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা. ২২৩)

দেনমোহরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ

হজের প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন

‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ নাকি ‘আস্তাকফিরুল্লাহ’ কোনটি সঠিক?

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়ার জায়গা

হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেক কথা বা কাজ যা আল্লাহর নাম ছাড়া শুরু করা হয়, তা অসম্পূর্ণ (বরকতশূন্য)।’ (মুসনাদে আহমাদ, ১৪/৩২৯)

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিসমিল্লাহ ছাড়া কোনো ভালো কাজ শুরু করলে তা অপূর্ণ ও বরকতশূন্য থাকে। তাই আমরা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দ্বারা কাজ শুরু করি। কোনো কিছু লেখার শুরুতেও বিসমিল্লাহ লিখি। বিশেষ করে চিঠি, দরখাস্ত ইত্যাদির শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা সুন্নত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন অমুসলিম দেশে যে দাওয়াতি চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাতেও এটি লিখেছেন। হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্রেও এটা লিখিত ছিল। এ কারণে আমরাও বিভিন্ন লেখার শুরুতে এটি লিখে থাকি।

প্রত্যেক ভালো কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়বে। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ খাওয়া শুরু করে, তখন সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। আর যদি সে (খাওয়ার শুরুতে) বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তবে সে যেন বলে, বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬৭)

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখায় সতর্কতা

বিভিন্ন দোকানের নাম ‘বিসমিল্লাহ’ দিয়ে রাখা হয়। আবার এ নামেই শপিং ব্যাগ, ক্যাশ মেমো বানানো হয়। এসব ব্যাগেই পণ্য সরবরাহ করা, গ্রাহককে মেমো দেয়া হয়। আর কাস্টমার প্রয়োজন শেষ হলে তা যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছে। কখনো পায়ের নিচে, কখনো ময়লা ডাস্টবিনে পড়ছে। তাই যাদের দোকান, অফিসের এমন নাম আছে মহান আল্লাহর কালামের সম্মানে নাম পরিবর্তন করুন।

নির্বাচনি পোস্টার, ওয়াজ-মাহফিলের পোস্টারে বিসমিল্লাহর অবমাননা একটু বেশি হয়। যেখানে সেখানে পড়ে থাকে।এগুলো তো রাস্তায় পড়ে, পায়ের নিচে পড়ে। সব পোস্টারগুলো যথাযথ সংরক্ষণ থাকে না। এ ছাড়াও ভিজিটিং কার্ড, ভাউচার ইত্যাদিতে অনেকেই বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম লিখেন। এগুলো লিখবেন না।

তাবিজ, আংটি ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম, কালেমা তাইয়্যিবা, নবীর নাম খোদাই করা থাকে। এগুলোও পরিহার করা চাই। বিশেষত এসব খোদাইকৃত বস্তু নিয়ে কখনো টয়লেটে যাবেন না।

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এর পরিবর্তে ৭৮৬ লেখার বিধান

অনেকেই বিভিন্ন চিঠিপত্র, নিমন্ত্রণপত্র, অফিসের প্যাড, লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, নেমপ্লেট কিংবা ঘরের দরজা ইত্যাদিতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুরোটা না লিখে সংক্ষেপে ৭৮৬ লিখে রাখে। আরবি অক্ষরগুলো মান অনুযায়ী বিসমিল্লাহর অক্ষরগুলোর পূর্ণমান বের করে ৭৮৬ লেখা হয়। ৭৮৬ মূলত বিসমিল্লাহ শব্দের সংখ্যা। এভাবে লেখার দ্বারা বিসমিল্লাহ লেখার সওয়াব আদায় হবে না। পবিত্র কোরআনের আয়াতের সংখ্যা বের করে কেউ তা পড়লে যেমন কোরআন পড়ার সওয়াব হবে না, তেমনি বিসমিল্লাহর সংখ্যা ৭৮৬ লিখলে বা পড়লে সেই সওয়াব হবে না।

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এল যেভাবে

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

মুসলমানের সব কাজ ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে শুরু করা উচিত। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ আরবি বাক্যবন্ধ। এর অর্থ, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে (শুরু করছি)। এ বাক্যে ‘শুরু করা’ ক্রিয়াটি উহ্য। এর উদ্দেশ্য যেকোনো ‘কাজ’ আল্লাহর নামে আরম্ভ করা।

‘নিশ্চয় এটা (চিঠি বা বার্তা) সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।’ (সুরা নামল, আয়াত: ৩০)

‘নিশ্চয় এটা (চিঠি বা বার্তা) সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।’ (সুরা নামল, আয়াত: ৩০)

মুফতি জাকারিয়া হারুন

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বরকতের বাক্য। এ বাক্য পাঠে মহান আল্লাহ অফুরন্ত রহমত, বরকত দান করেন। ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্যগুলোর একটি। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়েই পবিত্র কোরআন শরিফের ১১৪টি সুরার মধ্যে নবম সুরা তাওবা ছাড়া অন্য বাকি ১১৩টি সুরা শুরু করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’

পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবা ছাড়া সব সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লিপিবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া হযরত নুহ (আ.)–কে জাহাজে আরোহণের আদেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন,

وَ قَالَ ارۡکَبُوۡا فِیۡهَا بِسۡمِ اللّٰهِ مَ‍‍جۡؔرٖىهَا وَ مُرۡسٰىهَا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ

তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহণ করো আল্লাহর নামে। এর চলা ও থামার (নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ)। (সুরা হুদ, আয়াত: ৪১)।

হযরত সুলাইমান (আ.)-এর ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,

اِنَّهٗ مِنۡ سُلَیۡمٰنَ وَ اِنَّهٗ بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

নিশ্চয় এটা (চিঠি বা বার্তা) সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।’(সুরা নামল, আয়াত: ৩০)

হাদিসে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’

বিসমিল্লাহ একটি শক্তিশালী আমল। এর মাধ্যমে শয়তানের কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। যাবতীয় অকল্যাণ ও অনিষ্ঠতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আবু মুলাইহ থেকে বর্ণিত, তিনি একজন সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একবার নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে তার আরোহীর পেছনে বসা ছিলাম। এমন সময় আরোহী পা ফসকে পড়ে গেল। তখন আমি বললাম, শয়তান ধ্বংস হোক। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘শয়তান ধ্বংস হোক এরূপ বলো না, কেননা এতে সে নিজেকে খুব বড় মনে করে এবং বলে আমার নিজ শক্তি দ্বারা এ কাজ করেছি; বরং এরূপ মুহূর্তে বলবে ‘বিসমিল্লাহ।’ এতে সে অতি ক্ষুদ্র হয়ে যায়, এমনকি মাছিসদৃশ হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৯৭৮২)

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে প্রথম অহি নাজিলের সময়ও এ উত্তম বাক্য পড়ানো হয়েছিল। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘হজরত জিবরাইল (আ.) সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তা হচ্ছে জিবরাইল (আ.) বলেন, হে মুহাম্মদ! আপনি আশ্রয় চান। মুহাম্মদ (সা.) বলেন, আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর জিবরাইল (আ.) বলেন, হে নবী! আপনি বলুন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।’ (তাফসির ইবনে কাসির : পৃষ্ঠা : ২৬৩)

চিঠি-পত্রে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’

চিঠি-পত্রে প্রথম বিসমিল্লাহ লিখেছেন হযরত সুলাইমান (আ.)। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম জীবনে ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ লিখতেন, এরপর কিছুদিন ‘বিসমিল্লাহির রহমান’ লিখেছেন। সর্বশেষ সুরা নামলে বিসমিল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাক্য নাজিল হওয়ার পর থেকে তিনি তা লেখারই প্রচলন করেন।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমকালীন রাজা-বাদশাহদের কাছে বিসমিল্লাহ লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন। হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্রেও পুরো বিসমিল্লাহ লিখতে আদেশ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাফেরদের আপত্তির কারণে পরবর্তীতে ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ লেখা হয়। (তাফসিরে রূহুল মাআনি খণ্ড ১, পৃষ্ঠা. ৮)

পৃথিবীর ইহিহাসে প্রথম লিখিত মদিনার সনদেও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুরাটা লেখা হয়েছিল। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা. ২২৩)

দেনমোহরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ

হজের প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন

‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ নাকি ‘আস্তাকফিরুল্লাহ’ কোনটি সঠিক?

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়ার জায়গা

হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেক কথা বা কাজ যা আল্লাহর নাম ছাড়া শুরু করা হয়, তা অসম্পূর্ণ (বরকতশূন্য)।’ (মুসনাদে আহমাদ, ১৪/৩২৯)

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিসমিল্লাহ ছাড়া কোনো ভালো কাজ শুরু করলে তা অপূর্ণ ও বরকতশূন্য থাকে। তাই আমরা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দ্বারা কাজ শুরু করি। কোনো কিছু লেখার শুরুতেও বিসমিল্লাহ লিখি। বিশেষ করে চিঠি, দরখাস্ত ইত্যাদির শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা সুন্নত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন অমুসলিম দেশে যে দাওয়াতি চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাতেও এটি লিখেছেন। হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্রেও এটা লিখিত ছিল। এ কারণে আমরাও বিভিন্ন লেখার শুরুতে এটি লিখে থাকি।

প্রত্যেক ভালো কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়বে। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ খাওয়া শুরু করে, তখন সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। আর যদি সে (খাওয়ার শুরুতে) বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তবে সে যেন বলে, বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬৭)

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখায় সতর্কতা

বিভিন্ন দোকানের নাম ‘বিসমিল্লাহ’ দিয়ে রাখা হয়। আবার এ নামেই শপিং ব্যাগ, ক্যাশ মেমো বানানো হয়। এসব ব্যাগেই পণ্য সরবরাহ করা, গ্রাহককে মেমো দেয়া হয়। আর কাস্টমার প্রয়োজন শেষ হলে তা যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছে। কখনো পায়ের নিচে, কখনো ময়লা ডাস্টবিনে পড়ছে। তাই যাদের দোকান, অফিসের এমন নাম আছে মহান আল্লাহর কালামের সম্মানে নাম পরিবর্তন করুন।

নির্বাচনি পোস্টার, ওয়াজ-মাহফিলের পোস্টারে বিসমিল্লাহর অবমাননা একটু বেশি হয়। যেখানে সেখানে পড়ে থাকে।এগুলো তো রাস্তায় পড়ে, পায়ের নিচে পড়ে। সব পোস্টারগুলো যথাযথ সংরক্ষণ থাকে না। এ ছাড়াও ভিজিটিং কার্ড, ভাউচার ইত্যাদিতে অনেকেই বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম লিখেন। এগুলো লিখবেন না।

তাবিজ, আংটি ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম, কালেমা তাইয়্যিবা, নবীর নাম খোদাই করা থাকে। এগুলোও পরিহার করা চাই। বিশেষত এসব খোদাইকৃত বস্তু নিয়ে কখনো টয়লেটে যাবেন না।

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এর পরিবর্তে ৭৮৬ লেখার বিধান

অনেকেই বিভিন্ন চিঠিপত্র, নিমন্ত্রণপত্র, অফিসের প্যাড, লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, নেমপ্লেট কিংবা ঘরের দরজা ইত্যাদিতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুরোটা না লিখে সংক্ষেপে ৭৮৬ লিখে রাখে। আরবি অক্ষরগুলো মান অনুযায়ী বিসমিল্লাহর অক্ষরগুলোর পূর্ণমান বের করে ৭৮৬ লেখা হয়। ৭৮৬ মূলত বিসমিল্লাহ শব্দের সংখ্যা। এভাবে লেখার দ্বারা বিসমিল্লাহ লেখার সওয়াব আদায় হবে না। পবিত্র কোরআনের আয়াতের সংখ্যা বের করে কেউ তা পড়লে যেমন কোরআন পড়ার সওয়াব হবে না, তেমনি বিসমিল্লাহর সংখ্যা ৭৮৬ লিখলে বা পড়লে সেই সওয়াব হবে না।