০৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাঙিয়ে তুলবেন যেভাবে বৃষ্টির দিনটা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪
  • ২৭৯ বার পঠিত

জানালার একটি পাল্লা খোলা, অন্যটির অর্ধেক লাগানো। নইলে আবার বৃষ্টির ছিটায় ভিজে যাওয়ার ভয়। বালিশে হেলান দিয়ে উঠোনে হাঁসের বাচ্চাগুলোর ছোটাছুটি দেখছেন টুম্পা। ‌দুই কাপ চা নিয়ে হাজির সাদী। সঙ্গে পেঁয়াজ-মরিচ আর সরিষার তেল দিয়ে মাখানো এক বাটি মুড়ি-চানাচুর। দুপুর থেকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর গল্প আর শেষ হয় না! টিনের চালের রিমঝিমও বন্ধ হওয়ার নাম নেই! দিনটা যে বর্ষার।

বর্ষা কালে প্রায়ই ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় থাকে না। সারাদিন আবদ্ধ থেকে অনেকে একঘেয়েমি বোধ করেন। কিন্তু সাদী-টুম্পার মতো আপনিও বর্ষার বোরিং দিনটাকে রঙিন করে তুলতে পারেন।

কিছু কাজের মাধ্যমে ঘরে বসেই বৃষ্টির দিনটা উপভোগ করতে পারেন।

১. রান্না

বৃষ্টির দিনে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মাথায় আসে ভাজাপোড়া খাওয়ার কথা। তেমন মনে হলে চলে যান রান্নাঘরে। রান্নাবান্নার অভ্যাস না থাকলেই বা সমস্যা কি! একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষাই না হয় করলেন। বাড়ির দক্ষ কারো সাহায্য নিয়েও রান্না করতে পারেন। পিঠা, পাকোড়া বা জিলাপির মতো মুখরোচক কিছু বানিয়ে ফেললে বৃষ্টির দিনে খারাপ লাগবে না।

২. সিনেমা

বাইরে বের হতে না পারলে সময় যেন কাটতেই চায় না। তাই বৃষ্টির দিনে ঘরে বসে দেখতে পারেন সিনেমা অথবা পছন্দের ওয়েব সিরিজ। রোম্যান্টিক অথবা কমেডি সিনেমা হলেই ভালো, মন ফুরফুরে থাকবে।

৩. বই

বৃষ্টির দিনে ঘরে বসে একাকিত্ব বোধ করছেন? ভালো একটি বই হাতে নিন। এক কাপ গরম চা অথবা কফি নিয়ে বসে পড়ুন। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ বইয়ের প্রতিটি বাক্য আরও মধুর করে তুলবে।

৪. গান

গানপ্রেমীদের জন্য বৃষ্টি মানেই যেন রবীন্দ্র সংগীত। আবার অনেকে শোনেন ক্লাসিক্যাল। বৃষ্টির ছন্দের সঙ্গে পছন্দের গানের মূর্ছনা একাকার হয়ে অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি করে।

৫. ঘরোয়া খেলা

আশি এবং নব্বইর দশকে গ্রামে বর্ষাকালে ঘরের বারান্দায় বসে লুডু খেলার চল ছিল। নগর কিংবা গ্রাম যেখানেই থাকেন বৃষ্টির দিনে আপনিও পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে লুডু, তাস, ক্যারমের মতো খেলা উপভোগ করতে পারেন।

৬. আড্ডা

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পরিবার, আত্মীয় এবং বন্ধুদের সঙ্গে মুখোমুখি আড্ডার দারুণ উপলক্ষ হতে পারে বৃষ্টি। মুখরোচক শুকনো খাবার নিয়ে সবাই মিলে বসুন। দেখবেন, হাসি-ঠাট্টার মাঝে বাবা-মা, দাদা-দাদির স্মৃতিচারণও উপভোগ্য হয়ে উঠবে। বৃষ্টির দিনে ঘরে একেবারেই মন না টিকলে বেরিয়ে পড়তে পারেন। বর্ষার দিনগুলো উপভোগের জন্য বাইরেও কিন্তু অনেক উপলক্ষ আছে।

৭. সাংস্কৃতিক ইভেন্ট

ইনডোরে যদি কোনো অনুষ্ঠান থাকে যেমন মঞ্চনাটক কিংবা কনসার্ট, সেখানে চলে যেতে পারেন। আর্ট গ্যালারি বা জাদুঘরেও ঘুরে আসতে পারেন।

৮. খাই-দাই

ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ুন। অবশ্যই ছাতা নিতে ভুলবেন না। ভিজে গেলে সব পরিকল্পনা মাটি হয়ে যেতে পারে। এরপর চলে যান পছন্দের রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেতে। নতুন রেস্টুরেন্টেও অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। অনেক জায়গায় ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ির মতো ভালো স্ট্রিটফুড পাওয়া যায়, সেগুলোও খেতে পারেন।

বৃষ্টি মানুষকে ঘরে আটকে দেয়। এটা কিন্তু একে অপরের আরও কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তাই বৃষ্টিকে বিরক্তির কারণ না বানিয়ে উপভোগ্য করে তুলুন।

রাঙিয়ে তুলবেন যেভাবে বৃষ্টির দিনটা

প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪

জানালার একটি পাল্লা খোলা, অন্যটির অর্ধেক লাগানো। নইলে আবার বৃষ্টির ছিটায় ভিজে যাওয়ার ভয়। বালিশে হেলান দিয়ে উঠোনে হাঁসের বাচ্চাগুলোর ছোটাছুটি দেখছেন টুম্পা। ‌দুই কাপ চা নিয়ে হাজির সাদী। সঙ্গে পেঁয়াজ-মরিচ আর সরিষার তেল দিয়ে মাখানো এক বাটি মুড়ি-চানাচুর। দুপুর থেকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর গল্প আর শেষ হয় না! টিনের চালের রিমঝিমও বন্ধ হওয়ার নাম নেই! দিনটা যে বর্ষার।

বর্ষা কালে প্রায়ই ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় থাকে না। সারাদিন আবদ্ধ থেকে অনেকে একঘেয়েমি বোধ করেন। কিন্তু সাদী-টুম্পার মতো আপনিও বর্ষার বোরিং দিনটাকে রঙিন করে তুলতে পারেন।

কিছু কাজের মাধ্যমে ঘরে বসেই বৃষ্টির দিনটা উপভোগ করতে পারেন।

১. রান্না

বৃষ্টির দিনে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মাথায় আসে ভাজাপোড়া খাওয়ার কথা। তেমন মনে হলে চলে যান রান্নাঘরে। রান্নাবান্নার অভ্যাস না থাকলেই বা সমস্যা কি! একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষাই না হয় করলেন। বাড়ির দক্ষ কারো সাহায্য নিয়েও রান্না করতে পারেন। পিঠা, পাকোড়া বা জিলাপির মতো মুখরোচক কিছু বানিয়ে ফেললে বৃষ্টির দিনে খারাপ লাগবে না।

২. সিনেমা

বাইরে বের হতে না পারলে সময় যেন কাটতেই চায় না। তাই বৃষ্টির দিনে ঘরে বসে দেখতে পারেন সিনেমা অথবা পছন্দের ওয়েব সিরিজ। রোম্যান্টিক অথবা কমেডি সিনেমা হলেই ভালো, মন ফুরফুরে থাকবে।

৩. বই

বৃষ্টির দিনে ঘরে বসে একাকিত্ব বোধ করছেন? ভালো একটি বই হাতে নিন। এক কাপ গরম চা অথবা কফি নিয়ে বসে পড়ুন। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ বইয়ের প্রতিটি বাক্য আরও মধুর করে তুলবে।

৪. গান

গানপ্রেমীদের জন্য বৃষ্টি মানেই যেন রবীন্দ্র সংগীত। আবার অনেকে শোনেন ক্লাসিক্যাল। বৃষ্টির ছন্দের সঙ্গে পছন্দের গানের মূর্ছনা একাকার হয়ে অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি করে।

৫. ঘরোয়া খেলা

আশি এবং নব্বইর দশকে গ্রামে বর্ষাকালে ঘরের বারান্দায় বসে লুডু খেলার চল ছিল। নগর কিংবা গ্রাম যেখানেই থাকেন বৃষ্টির দিনে আপনিও পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে লুডু, তাস, ক্যারমের মতো খেলা উপভোগ করতে পারেন।

৬. আড্ডা

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পরিবার, আত্মীয় এবং বন্ধুদের সঙ্গে মুখোমুখি আড্ডার দারুণ উপলক্ষ হতে পারে বৃষ্টি। মুখরোচক শুকনো খাবার নিয়ে সবাই মিলে বসুন। দেখবেন, হাসি-ঠাট্টার মাঝে বাবা-মা, দাদা-দাদির স্মৃতিচারণও উপভোগ্য হয়ে উঠবে। বৃষ্টির দিনে ঘরে একেবারেই মন না টিকলে বেরিয়ে পড়তে পারেন। বর্ষার দিনগুলো উপভোগের জন্য বাইরেও কিন্তু অনেক উপলক্ষ আছে।

৭. সাংস্কৃতিক ইভেন্ট

ইনডোরে যদি কোনো অনুষ্ঠান থাকে যেমন মঞ্চনাটক কিংবা কনসার্ট, সেখানে চলে যেতে পারেন। আর্ট গ্যালারি বা জাদুঘরেও ঘুরে আসতে পারেন।

৮. খাই-দাই

ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ুন। অবশ্যই ছাতা নিতে ভুলবেন না। ভিজে গেলে সব পরিকল্পনা মাটি হয়ে যেতে পারে। এরপর চলে যান পছন্দের রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেতে। নতুন রেস্টুরেন্টেও অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। অনেক জায়গায় ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ির মতো ভালো স্ট্রিটফুড পাওয়া যায়, সেগুলোও খেতে পারেন।

বৃষ্টি মানুষকে ঘরে আটকে দেয়। এটা কিন্তু একে অপরের আরও কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তাই বৃষ্টিকে বিরক্তির কারণ না বানিয়ে উপভোগ্য করে তুলুন।