মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষীপুরা গ্রামে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আটজনকে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এই ঘটনায়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আড়াই বছরের শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ রয়েছেন।
আহতরা হলেন লক্ষীপুরার ইসরাফিল মিয়ার আড়াই বছরের ছেলে আয়ান, সৈয়দ মোহাম্মদ (৫০), নওনেহা (৬), সালমান (১৫), মোঃ রাব্বি (১৮), রিজওয়ান (১০), মাহিন (৭) ও সাফওয়ান (৬)।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার আরশাদ কবীর আতিক গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত সোয়া আটটার মধ্যে টানা আটজন কুকুরে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে আসেন। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাবিস ভ্যাকসিনের মজুত না থাকায় আক্রান্তদের মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতাল বা ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত বছর অক্টোবরে হঠাৎ কুকুরে কামড়ের ঘটনা বেড়ে গেলে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে কিছু ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আর কোনো ভ্যাকসিন মজুত রাখা হয়নি। ফলে রোগীরা নিয়মিত ভ্যাকসিন সংকটে পড়ছেন।
এ অবস্থায় আহতদের স্বজনরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “একসঙ্গে আটজন আক্রান্ত হওয়ার পরও স্থানীয় হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই এটা অবিশ্বাস্য। শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বারবার সদর হাসপাতাল বা ঢাকায় যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে জীবনরক্ষাকারী টিকা না থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তাই তারা অবিলম্বে গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুর নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অল্প সময়ের ব্যবধানে ৮ জনকে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা শুধু আক্রান্তদের অসহায়ত্ব নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা ও ভ্যাকসিন সংকটের বাস্তবতাকেও স্পষ্ট করেছে। এখন প্রশ্ন একটাই কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, যাতে সাধারণ মানুষ আবারও এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়।


















