১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ প্রায় পুরো পরিবার শহীদ হন

১৫ আগস্ট: জাতির জনক হত্যার ৫০ বছর

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০২৫
  • ৩২২ বার পঠিত হয়েছে

আজ ১৫ আগস্ট, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে তাঁর বাসভবনে প্রবেশ করে নির্মমভাবে হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিকে। এই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর প্রায় পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সেদিন শহীদদের মধ্যে ছিলেন জাতির জনকের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাই শেখ আবু নাসের, কর্নেল জামিল, এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।

অন্যদিকে আলাদা হামলায় প্রাণ হারান যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি। একই রাতে আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনকেও হত্যা করা হয়। ভাগ্যক্রমে জাতির জনকের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

দীর্ঘ ২১ বছর পর, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর আদালত ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হয়, একজন বিদেশে মৃত্যুবরণ করেন এবং পাঁচজন এখনো পলাতক।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি চালু হয়। তবে গত বছরের ছাত্র–জনতার আন্দোলনে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে জাতীয় শোক দিবসে সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। একই বছরের ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, পরে দ্বিতীয় দফায় সেটি ভেঙে ফেলা হয়।

ষাটের দশকের শেষ দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে শীর্ষস্থান অর্জন করেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহস ও প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়, যা আজও বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন
জনপ্রিয় টার্গেট

দৈনিক টার্গেট

আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে।

ফলো করুন

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ প্রায় পুরো পরিবার শহীদ হন

১৫ আগস্ট: জাতির জনক হত্যার ৫০ বছর

প্রকাশ: ০২:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০২৫

আজ ১৫ আগস্ট, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে তাঁর বাসভবনে প্রবেশ করে নির্মমভাবে হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিকে। এই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর প্রায় পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সেদিন শহীদদের মধ্যে ছিলেন জাতির জনকের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাই শেখ আবু নাসের, কর্নেল জামিল, এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।

অন্যদিকে আলাদা হামলায় প্রাণ হারান যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি। একই রাতে আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনকেও হত্যা করা হয়। ভাগ্যক্রমে জাতির জনকের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

দীর্ঘ ২১ বছর পর, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর আদালত ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হয়, একজন বিদেশে মৃত্যুবরণ করেন এবং পাঁচজন এখনো পলাতক।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি চালু হয়। তবে গত বছরের ছাত্র–জনতার আন্দোলনে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে জাতীয় শোক দিবসে সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। একই বছরের ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, পরে দ্বিতীয় দফায় সেটি ভেঙে ফেলা হয়।

ষাটের দশকের শেষ দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে শীর্ষস্থান অর্জন করেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহস ও প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়, যা আজও বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন