ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক আলোড়ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রস্তাব অনুযায়ী, বিজয়নগরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন চান্দুরা, বুধন্তি ও হরষপুর সরাইল উপজেলার নির্বাচনী আসনে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে বিজয়নগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা রয়েছে, আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, বিজয়নগরের এই তিনটি ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের অংশ হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই পরিবর্তন তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এলাকার উন্নয়ন অগ্রগতি ব্যাহত করবে।
চান্দুরা ইউনিয়নের এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং সংস্কৃতি বিজয়নগরের সঙ্গে বেশি নিবিড়। সরাইলের সঙ্গে আমাদের ভৌগোলিক বা সামাজিক কোনো মিল নেই। এই সিদ্ধান্ত যদি চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে আমাদের পরিচয় হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।”
অন্যদিকে, হরষপুরের এক তরুণ ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদেরকে কেউ রোহিঙ্গা বা ভাড়াটিয়া ভাববে না। আমরা এই মাটির সন্তান, বিজয়নগরের গর্বিত মানুষ। মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে লাখ লাখ মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেন ছিনিমিনি না খেলা হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি গোপনীয়তা বজায় না রেখে ভুল তথ্য দিয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই এটিকে ‘বিজয়নগর বিক্রির ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে এবং ১০ আগস্ট, ২০২৫ পর্যন্ত দাবী, আপত্তি বা সুপারিশ জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১’ অনুযায়ী, প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জনসংখ্যার বাস্তব বিভাজন বিবেচনায় সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। বিজয়নগরের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই আইনকে ভিত্তি করে তাদের আপত্তি আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একযোগে কাজ করে আপত্তি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাদের বিশ্বাস, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এই প্রস্তাব বাতিল হবে এবং বিজয়নগরের ঐক্য রক্ষা পাবে।
এই বিতর্কে রাজনৈতিক নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা রয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, সীমানা পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং এলাকার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হবে।
এখন সকলের নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে, যা এই জনমতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে বিজয়নগরের ভবিষ্যৎ সীমানা।
দৈনিক টার্গেট 















