রাজধানী ঢাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে হঠাৎ হালকা কম্পন টের পান রাজধানীবাসী। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৬, যা তুলনামূলকভাবে স্বল্পমাত্রার। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল অঞ্চল।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এর আগে গত ২১ ও ২২ নভেম্বর টানা প্রায় ৩১ ঘণ্টায় চার দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা। সবচেয়ে তীব্র কম্পনটি হয়েছিল শুক্রবার সকালে, যার মাত্রা ছিল ৫.৭। সে ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় এবং উৎপত্তির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার। ভয়াবহ সেই কম্পনে ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং ৬০০–র বেশি মানুষ আহত হন।
ভূমিকম্প প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, আজ ভোরে সিলেট এবং কক্সবাজারের টেকনাফে আরও দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত শুক্রবারের পর থেকে আজ পর্যন্ত মোট ছয়বার কম্পন ধরা পড়ল।
তিনি আরো জানান, সাম্প্রতিক ছয়টি ভূমিকম্পের মধ্যে তিনটির কেন্দ্র নরসিংদী, যা মূলত বার্মা প্লেট ও ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল এলাকাটি পরিচিত সাবডাকশন জোন হিসেবে। একই টেকটনিক বলের প্রভাবে সিলেট ও টেকনাফের আজকের কম্পনগুলোও হয়েছে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, ২১ নভেম্বরের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন। ভূপৃষ্ঠে এমন তীব্রতা আগে কখনো এত স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়নি, ফলে রাজধানীর মানুষ ব্যাপক আতঙ্কে পড়ে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ভূমিকম্পের সক্রিয়তা বাড়ছে কিনা এ নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।