Site icon দৈনিক টার্গেট

পাকুন্দিয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অর্ধশত আহত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় হঠাৎ পাগলা কুকুরের আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের মধ্যেই নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ঘটনার পরপরই আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রাত ৮টা পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ অনেকেই এখনো বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। কারও হাত, কারও পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত—অনেকের ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কেউ সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন। আতঙ্কিত স্বজনদের ভিড়ে পুরো হাসপাতাল এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইমরান, সাদেক, মানছু মিয়া, জয়, খুশনাহার, আসমা, মুনতাজ উদ্দিন, শরিফ, কাওসার, জিহাদ, বাবুল মিয়া, মিলন, সিয়াম, সুমা, রিনা, কিসমত, শিপন, লোকমান হোসেন, সাখাওয়াত, বিজয়, স্বপন মিয়া, হারুন অর রশীদ, পলাশ, আকিব আলম, সুমিত, লাবণ্য, সানজিদা, রফিকুল ইসলাম, রইছ উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান জানান, সন্ধ্যার পর অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক রোগী হাসপাতালে আসতে থাকেন। এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক কুকুরে কামড়ানোর রোগী আগে কখনো দেখা যায়নি। গুরুতর আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে থাকা রেবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দ্রুত শেষ হয়ে গেছে, ফলে অনেককে বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আরিফুর রহমান দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করেন।

ইউএনও রূপম দাস জানান, কুকুরের আক্রমণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পাগলা কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Exit mobile version