বরিশাল নগরীতে টানা বর্ষণে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে অধিকাংশ সড়ক ও গলি। এতে নাকাল হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নগরবাসীকে হাঁটু পর্যন্ত পানি মাড়িয়ে পার হতে হচ্ছে প্রতিদিনের পথ।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বিশেষ করে বগুড়া রোড, রাজাবাহাদুর সড়ক এবং বটতলা থেকে চৌমাথা সড়কের আশপাশে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএম কলেজ, টিটিসি এবং শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেও পানি জমে আছে।
বগুড়া রোডের ব্যবসায়ী ধলু বলেন, “নগরীতে যত ড্রেনই নির্মাণ হোক না কেন, বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”
বটতলা এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জানান, “প্রয়োজনীয় কাজে বের হলেই হাঁটু পানি পেরিয়ে যেতে হয়। এতে কষ্ট ও সময় দুটোই বেড়েছে।”
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক সালাম বলেন, “সড়কে পানি থাকায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মোটরে পানি ঢুকে বিকল হচ্ছে গাড়ি, নিজ খরচেই মেরামত করতে হচ্ছে। যাত্রী কম, আয়ও কমেছে।”
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে নদীভাঙন বা বড় ধরনের প্লাবনের সম্ভাবনা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলানুসন্ধান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, কীর্তনখোলা নদীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
টানা বৃষ্টিপাত ও পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে বরিশাল নগরীর বাসিন্দারা ভোগান্তির চক্রে পড়েছেন। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না এমনটাই বলছেন নগরবাসী।


















