বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার এসোসিয়েশন (রেজি: বি-১৯১০)-এর মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং এক দশক ধরে কোনো নির্বাচন না দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কোনো নির্বাচন ছাড়াই বর্তমান কমিটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।
এই দীর্ঘ সময়ে প্রতি মাসে সদস্যপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। তদুপরি, প্রতি তিন মাস অন্তর কাজের মেয়াদ বাড়ানোর অজুহাতে ৬৪০ জন সদস্যের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে আরও প্রায় ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এছাড়াও, ফ্ল্যাট বা প্লট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্যদের কাছ থেকে আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব টাকার সুনির্দিষ্ট হিসাব খাদ্য অধিদপ্তরের চলাচল শাখায় সংরক্ষিত আছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদসহ কয়েকজন নেতা পারস্পরিক যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। নির্বাচন বা হিসাব চাওয়ায় সদস্যদের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কাজ বাতিলের ভয় দেখানো হতো।
এছাড়াও, অভিযোগ উঠেছে যে অবৈধ কমিটির অধিকাংশ সদস্য রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছিলেন। তারা নাকি প্রকাশ্যে বলতেন, “যতদিন সরকার থাকবে, আমরাও ক্ষমতায় থাকবো, কোনো নির্বাচন হবে না।”
অবশেষে, সাধারণ ঠিকাদারদের প্রতিবাদের মুখে ২০২৫ সালের ৭ মে সিদ্ধিরগঞ্জে এক পরামর্শ সভার মাধ্যমে ৩৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে মোঃ আবদুল হাই রাজুকে আহ্বায়ক ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্য সচিব করা হয়।
নতুন এই কমিটি আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক সংগঠন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সাধারণ সদস্যরা দ্রুত সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজের অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেন।
কোষাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


















