ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া বাজারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত হামলার ঘটনাকে আড়াল করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে অভিযুক্ত পক্ষ এখন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই পাল্টা মামলা দায়ের করেছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি হলেন পাইকপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির স্থানীয় নেতা রাষ্ট্র সরকার। গত ৩ জুন (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে পাইকপাড়া বাজারে একটি ইজারাকৃত অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শনে গেলে তিনি অতর্কিত হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্র সরকার একাই হাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এসময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর তিন ছেলে রাসেল মিয়া (৩৩), এমরান মিয়া (৩৮), আল-আমিন (৩০) এবং মৃত আশরাফুল ইসলামের ছেলে মাসুদ মিয়া (২৮)-কে। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রাষ্ট্র সরকারকে দ্রুত বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে পরদিন ৪ জুন বিজয়নগর থানায় রাষ্ট্র সরকার নিজেই একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং জি.আর. ২০৬/২৫।
তবে এখানেই ঘটনার মোড় ঘুরতে শুরু করে। ঘটনার প্রায় এক মাস পর, ২ জুলাই (বুধবার) অভিযুক্ত পক্ষের সদস্য এমরান মিয়া রাষ্ট্র সরকারসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে পাল্টা মামলা দায়ের করেন (সি.আর. মামলা নং-৩২২/২৫)। বর্তমানে এই পাল্টা মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “ঘটনার দিন রাষ্ট্র সরকার একাই হাটে ছিলেন। তিনি হাটের ইজারা নিয়ে গিয়েছিলেন খোঁজখবর নিতে। কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই কিছু লোক হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। এখন উল্টো তাকেই অভিযুক্ত করা হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী বলেন, “আমি হামলার দিন কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। হাটে গিয়ে ইজারার হিসাবখাতা দেখছিলাম, তখনই হঠাৎ আমার ওপর হামলা হয়। হামলার প্রায় এক মাস পর শুনছি, আমাকে অভিযুক্ত করে নতুন মামলা হয়েছে। এ মামলায় অভিযোগকারী চিকিৎসার প্রমাণও অন্য উপজেলার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জোগাড় করেছে, যেখানে অভিযুক্তদেরই একজন আল-আমিন চাকরি করে। এটা পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এই মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “হামলার ঘটনায় রাষ্ট্র সরকার একাই ছিলেন এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের পাল্টা মামলা সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং হামলাকারীদের বাঁচাতে একটি প্রচলিত কৌশল। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন হরষপুর ইউনিয়নের সচেতন জনগণ।