দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে না দেওয়ার দাবিতে অদ্য সকালে ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’-এর ব্যানারে এক বিশাল রোড মার্চ শুরু হয়েছে। বামপন্থী বিভিন্ন দল ও জোটের সমন্বয়ে গঠিত এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আজ সকাল ৭: ৫৫ মিনিটে মতিঝিলের দিলকুশা ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সমবেত হতে শুরু করেন। এতে বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নিচ্ছে। তাদের মূল স্লোগানগুলো হলো- “মা-মাটি-মোহনা বিদেশিদের দেব না, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের দেব না, রাখাইনে করিডোর দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করো, জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করো।”
কর্মসূচির বিস্তারিত
সকাল ৯টায় মতিঝিল দিলকুশা ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে রোড মার্চ শুরু হয়। প্রথমে গুলিস্তান হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, এরপর লং মার্চ ঢাকার বাইরে যাত্রা করে। প্রথম দিন, আজ রোড মার্চ নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও মিছিল করবে। দিনের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লায়, এরপর অংশগ্রহণকারীরা ফেনীতে রাত্রিযাপন করবেন। কর্মসূচির জন্য ১২টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোতে করে জনগণ রোড মার্চে অংশ নিচ্ছেন।
রোড মার্চের দ্বিতীয় দিন, ২৮ জুন, সকালে ফেনী থেকে যাত্রা শুরু হবে। মিরসরাই এবং সীতাকুণ্ডে পথসভা ও মিছিলের পর চট্টগ্রাম বন্দরের সামনে একটি সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই রোড মার্চ শেষ হবে।
উপস্থিত নেতৃত্ব
এই গুরুত্বপূর্ণ রোড মার্চে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
দিলকুশা ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও, সমাবেশ ও যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে বাসে উঠেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশের জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই দাবিতে অনুষ্ঠিত রোড মার্চকে ঘিরে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।