চিনি শিল্পের অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের গ্র্যাচ্যুইটি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের দাবিতে আজ সকালে রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি।
চিনি শিল্পের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন চিনিকল থেকে আগত শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য পাওনা অর্থ- বিশেষ করে গ্র্যাচ্যুইটির বকেয়া পরিশোধ- সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে। এতে বহু অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি চরম আর্থিক সংকটে দিনযাপন করছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চিনি শিল্পে কর্মরত অবস্থায় তারা সারাজীবন দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছেন, কিন্তু অবসরের পর সেই শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তারা অভিযোগ করেন, সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচ্যুইটির মাত্র ২০% অর্থ প্রদানের প্রস্তাব বৈষম্যমূলক ও মানবাধিকারবিরোধী। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সম্পূর্ণ অর্থ ক্ষতিপূরণসহ প্রদান করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্তদের উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা ও মাসিক চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও বহু বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। অবিলম্বে এই ভাতা পুনর্বহাল করে নিয়মিত প্রদানের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন, যেখানে তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়-
১. অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া গ্র্যাচ্যুইটি সম্পূর্ণ পরিশোধ।
২. সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী উৎসব ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান
৩. গ্র্যাচ্যুইটির ২০% প্রদানের সিদ্ধান্ত বাতিল।
বিক্ষোভে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, আর বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন চিনিকলের শাখা কমিটির প্রতিনিধিরা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা একযোগে শ্লোগান তোলেন- “পাওনা চাই, ন্যায্য অধিকার চাই” এবং “অবসরপ্রাপ্তদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ কর”। তারা জানান, দাবিগুলো দ্রুত পূরণ না হলে পরবর্তী ধাপে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রচার সহযোগিতায় ছিলেন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস শাখার অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি।
