ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে- শোকের ছায়ায় মেরাজনগর

না ফেরার দেশে ঢাকার মেরাজনগরের দেলোয়ার হোসেন খান

  • মোঃ আল আমিন
  • প্রকাশ: ০৪:০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৪১৮ বার পঠিত হয়েছে

মেরাজনগর আজ স্তব্ধ। এক পরিচিত মুখ, এক অতি আপন মানুষ- মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান- আর নেই। ২ মে/২০২৬ শনিবার রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যু যেন শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।

দেলোয়ার হোসেন ছিলেন অতি ভদ্র, নম্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। যাকে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতে শোনা যায়নি, রাগ করতে দেখা যায়নি- এমনই ছিল তার ব্যক্তিত্ব। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি হাসিমুখে মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। ছোট একটি ব্যবসা নিয়ে তিনি সবসময় ব্যস্ত থাকতেন, কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের জন্য সময় দিতে কখনো কার্পণ্য করেননি।

তার মৃত্যুর খবরে মেরাজনগর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, এমনকি তার দোকানের নিয়মিত গ্রাহকদের মাঝেও কান্নার রোল পড়ে গেছে। যেন সবাই একসাথে হারিয়েছে তাদের প্রিয় একজন মানুষকে।

তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাগর, চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে বলেন- “দেলোয়ার খানের মতো মানুষ খুব কমই দেখা যায়। আমি কখনো তাকে রাগ করতে দেখিনি। কেউ কটু কথা বললেও তিনি হেসে উড়িয়ে দিতেন। তার দোকানে বসে আমরা কত গল্প করেছি, কত সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেছি- সব আজ স্মৃতি হয়ে গেল। হাসপাতালের বেডে শুয়েও আমার সাথে কথা বলতেন। আজ সেই মানুষটা নেই- এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন। তার অবস্থা জটিল হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যরা পরামর্শক্রমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য গত বুধবার অপারেশনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। অপারেশনের আগের দিন তিনি আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে দেখা করে আসেন, যেন সবাইকে শেষবারের মতো দেখে নিচ্ছিলেন।

তার এক শ্যালক, যিনি পিজি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক, তিনি জানান- “চারটি হার্ট ব্লক ধরা পড়েছিল। আমরা দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিই। অপারেশন সম্পন্ন হলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

তার মৃত্যুর পর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে তার পরিবারের মাঝে। ছোট মেয়ে, যে এখনো মাদ্রাসায় হাফিজিয়া পড়াশোনা করছে, বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছে, কখনো মূর্ছা যাচ্ছে- কোনভাবেই তাকে শান্ত করা যাচ্ছে না। বড় মেয়ের অবস্থাও একই রকম, চোখে-মুখে অসহায়ত্ব আর বেদনার ছাপ স্পষ্ট।

এদিকে একমাত্র ছেলে নাঈম যেন পাথর হয়ে গেছে। কোনো কথা বলতে পারছে না, শুধু নীরবে চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। বাবার প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা আজ নিঃশব্দ কান্নায় প্রকাশ পাচ্ছে।

দেলোয়ার হোসেন তার স্ত্রী, এক পুত্র, দুই কন্যা, ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন, ফলে পরিবারের এই আকস্মিক বিপর্যয় আরও গভীর দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসীর মধ্যে কাজল, শাহীন, রানা, রাসেল খান, রাজিব, মেরাজ, আলামিন, সাইফুল, আরিফ, সাংবাদিক সবুজ, প্রবাসী মোবারক সহ আরো অনেকের মন্তব্য- দেলোয়ার হোসেন শুধু একজন মানুষ ছিলেন না- তিনি ছিলেন একটি ভালোবাসার নাম, এক নির্ভরতার প্রতীক। তার মতো সহৃদয়, পরোপকারী ও বিনয়ী মানুষ আজকাল খুব কমই দেখা যায়। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আজ মেরাজনগরের প্রতিটি অলিগলি যেন তার স্মৃতিতে ভারী হয়ে উঠেছে। তার দোকানের সামনে দাঁড়ালে মনে পড়ে তার হাসিমুখ, তার মিষ্টি কথাবার্তা। মনে হয়, এই বুঝি তিনি এসে বলবেন- “কেমন আছো?”

কিন্তু বাস্তবতা নির্মম। তিনি আর ফিরবেন না। রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি, অশ্রুভেজা ভালোবাসা আর এক গভীর শূন্যতা।

আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দেন- এমনটাই প্রার্থনা করছেন এলাকাবাসী।

দেলোয়ার হোসেনের বিদায় যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবন কতটা অনিশ্চিত, আর ভালো মানুষগুলো কত দ্রুত হারিয়ে যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে- শোকের ছায়ায় মেরাজনগর

না ফেরার দেশে ঢাকার মেরাজনগরের দেলোয়ার হোসেন খান

প্রকাশ: ০৪:০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মেরাজনগর আজ স্তব্ধ। এক পরিচিত মুখ, এক অতি আপন মানুষ- মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান- আর নেই। ২ মে/২০২৬ শনিবার রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যু যেন শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।

দেলোয়ার হোসেন ছিলেন অতি ভদ্র, নম্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। যাকে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতে শোনা যায়নি, রাগ করতে দেখা যায়নি- এমনই ছিল তার ব্যক্তিত্ব। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি হাসিমুখে মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। ছোট একটি ব্যবসা নিয়ে তিনি সবসময় ব্যস্ত থাকতেন, কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের জন্য সময় দিতে কখনো কার্পণ্য করেননি।

তার মৃত্যুর খবরে মেরাজনগর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, এমনকি তার দোকানের নিয়মিত গ্রাহকদের মাঝেও কান্নার রোল পড়ে গেছে। যেন সবাই একসাথে হারিয়েছে তাদের প্রিয় একজন মানুষকে।

তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাগর, চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে বলেন- “দেলোয়ার খানের মতো মানুষ খুব কমই দেখা যায়। আমি কখনো তাকে রাগ করতে দেখিনি। কেউ কটু কথা বললেও তিনি হেসে উড়িয়ে দিতেন। তার দোকানে বসে আমরা কত গল্প করেছি, কত সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেছি- সব আজ স্মৃতি হয়ে গেল। হাসপাতালের বেডে শুয়েও আমার সাথে কথা বলতেন। আজ সেই মানুষটা নেই- এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন। তার অবস্থা জটিল হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যরা পরামর্শক্রমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য গত বুধবার অপারেশনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। অপারেশনের আগের দিন তিনি আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে দেখা করে আসেন, যেন সবাইকে শেষবারের মতো দেখে নিচ্ছিলেন।

তার এক শ্যালক, যিনি পিজি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক, তিনি জানান- “চারটি হার্ট ব্লক ধরা পড়েছিল। আমরা দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিই। অপারেশন সম্পন্ন হলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

তার মৃত্যুর পর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে তার পরিবারের মাঝে। ছোট মেয়ে, যে এখনো মাদ্রাসায় হাফিজিয়া পড়াশোনা করছে, বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছে, কখনো মূর্ছা যাচ্ছে- কোনভাবেই তাকে শান্ত করা যাচ্ছে না। বড় মেয়ের অবস্থাও একই রকম, চোখে-মুখে অসহায়ত্ব আর বেদনার ছাপ স্পষ্ট।

এদিকে একমাত্র ছেলে নাঈম যেন পাথর হয়ে গেছে। কোনো কথা বলতে পারছে না, শুধু নীরবে চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। বাবার প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা আজ নিঃশব্দ কান্নায় প্রকাশ পাচ্ছে।

দেলোয়ার হোসেন তার স্ত্রী, এক পুত্র, দুই কন্যা, ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন, ফলে পরিবারের এই আকস্মিক বিপর্যয় আরও গভীর দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসীর মধ্যে কাজল, শাহীন, রানা, রাসেল খান, রাজিব, মেরাজ, আলামিন, সাইফুল, আরিফ, সাংবাদিক সবুজ, প্রবাসী মোবারক সহ আরো অনেকের মন্তব্য- দেলোয়ার হোসেন শুধু একজন মানুষ ছিলেন না- তিনি ছিলেন একটি ভালোবাসার নাম, এক নির্ভরতার প্রতীক। তার মতো সহৃদয়, পরোপকারী ও বিনয়ী মানুষ আজকাল খুব কমই দেখা যায়। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আজ মেরাজনগরের প্রতিটি অলিগলি যেন তার স্মৃতিতে ভারী হয়ে উঠেছে। তার দোকানের সামনে দাঁড়ালে মনে পড়ে তার হাসিমুখ, তার মিষ্টি কথাবার্তা। মনে হয়, এই বুঝি তিনি এসে বলবেন- “কেমন আছো?”

কিন্তু বাস্তবতা নির্মম। তিনি আর ফিরবেন না। রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি, অশ্রুভেজা ভালোবাসা আর এক গভীর শূন্যতা।

আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দেন- এমনটাই প্রার্থনা করছেন এলাকাবাসী।

দেলোয়ার হোসেনের বিদায় যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবন কতটা অনিশ্চিত, আর ভালো মানুষগুলো কত দ্রুত হারিয়ে যায়।