গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় গাজীপুর মহানগরের বাসন মেট্রো থানাধীন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজস্ব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং আইপি টিভির সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, সম্প্রতি একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে তার বিরুদ্ধে “ব্রেকিং নিউজ” শিরোনামে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর। তিনি বলেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে কখনোই চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইমেজ ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার মতে, জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে তাকে টার্গেট করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সাবেক ১৬ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং বাসন মেট্রো থানা শ্রমিক দলের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি শ্রমজীবী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় মাঠে ছিলাম। কখনো অন্যায়, দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এখন যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার অপচেষ্টা করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ফেসবুকে ছড়ানো এই মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। সাইবার ক্রাইম আইনে মামলা করার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভুয়া ফেসবুক পেজ শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ সময় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে না পারে।
শফিকুল ইসলাম শফিক আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত “জুয়া শফিক” শব্দটি সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপমান ও চরিত্রহননের চেষ্টা। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক মহল পরিকল্পিতভাবে তার নাম ও পরিচয় বিকৃত করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
তিনি জানান, আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন দেখে একটি পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি দূর করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই যাচাই-বাছাই না করে কোনো ভুয়া তথ্য প্রচার না করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ফেসবুকভিত্তিক ভুয়া পেজ ও পোস্টের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চরিত্রহননের ঘটনা উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে শফিকুল ইসলাম শফিক তার বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, তিনি সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জনগণের পাশে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন।
বিলকিস আক্তার রুবি 
























