খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা বাজার কমিটির বারবার নির্বাচিত সভাপতি এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ জুলফিকার আলমের ছোট ছেলে মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুল্লাহের এপেন্ডিসিটিসের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। খুলনা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসকদলের দক্ষতায় এই অপারেশনটি অব্যাহতি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় জনগণ ছেলের দ্রুত সুস্থতা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য প্রখর দোয়া ও প্রার্থনা করছেন। এই ঘটনা কয়রা উপজেলার সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জুলফিকার আলমের পরিবারের সঙ্গে সকলের মিলিত সমর্থনকে তুলে ধরে।
মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুল্লাহ, মাত্র ৮ বছর বয়সী এই নির্দোষ শিশু, হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথায় কাতরাতে শুরু করলে তার পরিবারের মনে উদ্বেগের ঝড় উঠেছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা এপেন্ডিসিটিসের সন্দেহ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা শহরের ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়রা উপজেলা থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় পরিবারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। হাসপাতালের অভিজ্ঞ সার্জনের নেতৃত্বাধীন চিকিৎসক টিম অল্প সময়ের মধ্যেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। এই অপারেশনটি মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়, যা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে প্রমাণ করে। অপারেশনের পর জুনায়েদের অবস্থা স্থিতিশীল হয়েছে এবং তিনি এখন আইসিইউ থেকে জেনারেল ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানান, কোনো জটিলতা ছাড়াই ছেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে ফিরে যাবে।
জুলফিকার আলম, যিনি কয়রা উপজেলা বাজার কমিটির সভাপতি হিসেবে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের জন্য স্থানীয় জনগণের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার বাজার ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল হয়েছে, যেখানে কৃষক-ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে তাঁর প্রচেষ্টা সকলের প্রশংসা লাভ করেছে। এছাড়া, তাঁর সমাজসেবামূলক কাজের মধ্যে রয়েছে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা, বন্যা-ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা। কয়রা উপজেলার জনগণ তাঁকে ‘নয়নমণি’ বলে সম্বোধন করেন, কারণ তাঁর সেবামনোভাব এবং সরল জীবনযাপন সকলের মনে স্থান করে নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব বলেন, “জুলফিকার ভাই আমাদের পরিবারের মতো। তাঁর ছেলের অসুস্থতার খবরে আমরা সকলে চিন্তিত ছিলাম, আজ সফল অপারেশনের খবরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছি।”
এই ঘটনার পর কয়রা উপজেলার বিভিন্ন স্তর থেকে জুলফিকার আলমের পরিবারের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়ছে। কয়রা উপজেলা বাজার কমিটির সদস্যরা এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন। জুলফিকার আলম নিজে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে লিখেছেন, ” মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুল্লাহ, আমার ছোট ছেলে। খুলনা ইসলামী ব্যাংক হসপিটালে ওর অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন চলছে, সকলের কাছে দোয়া চাই।” এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে উঠেছে, যাতে শত শত মানুষ লাইক, শেয়ার এবং কমেন্ট করে সমর্থন জানিয়েছে। একজন কমেন্টকারী লিখেছেন, ফি আমানিল্লাহ্। আল্লাহ তায়ালা তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন এবং আগামীদিনের ইসলামি আন্দোলনের অগ্রনায়ক হিসাবে কবুল করুন।
খুলনা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এপেন্ডিসিটিসের মতো রোগগুলোতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা জটিলতা এড়াতে সাহায্য করে। তিনি আরও বলেন, কয়রার মতো দূরবর্তী উপজেলা থেকে খুলনা শহরে এমন সুবিধাযুক্ত হাসপাতালের উপস্থিতি স্থানীয়দের জন্য বর্তণ। জুলফিকার আলমের পরিবার এখন চিন্তা মুক্ত, যদিও তারা সতর্কতার সাথে ছেলের যত্ন নিচ্ছেন। কয়রা উপজেলার স্থানীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে, যেখানে উপজেলার শত শত মানুষ অংশ নিবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং কয়রা উপজেলার সমাজের ঐক্যের প্রতীক। জুলফিকার আলমের মতো নেতাদের উপস্থিতি সমাজকে শক্তিশালী করে এবং এমন সমর্থনের মাধ্যমে সকলে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়। মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুল্লাহের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলে দোয়া করছেন, যাতে এই ছোট্ট জীবনটি সুস্থভাবে বড় হয় এবং তার বাবার মতোই সমাজের সেবায় নিয়োজিত হয়।
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 

















