কয়রায় স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট নিরসনে অপারেশন চালু, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

কয়রায় স্বাস্থ্যসেবার সংকট নিরসনে সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১১৩ বার পঠিত হয়েছে

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যখাতে চরম সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো’র কয়রা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণের জন্য কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীরা যে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন সেগুলো হলো-

১) কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ানসহ অপারেশন কার্যক্রম চালু করা,

২) প্যাথলজি, আলট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে সেবা নিশ্চিত করা,

৩) গাইনী, সার্জারি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল পদায়ন,

৪) চিকিৎসকদের জন্য আবাসিক ভবন ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা,

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

৫) ৩১ শয্যার নতুন ভবনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা,

৬) কয়রা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংস্কার ও চিকিৎসক নিয়োগ,

৭) কয়রা সদরে ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ তিন বছর ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান ও অন্যান্য অপারেশন বন্ধ থাকায় প্রসূতি নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন। পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে ছুটতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতাল কার্যত ১৯ শয্যার ভবনে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে, আর নতুন ভবনের নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

তারা আরও জানান, উপজেলায় কোনো নারী চিকিৎসক নেই। শিশু বিশেষজ্ঞ ছাড়া প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সংকট দিন দিন বাড়ছে। আবাসন ও কর্মপরিবেশ অনুপযোগী হওয়ায় পদায়িত চিকিৎসকেরাও স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন না। ফলে কয়েকজন মেডিকেল অফিসারকে বিপুল জনগোষ্ঠীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো’র কয়রা উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন কয়রা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম শাহাবুদ্দিন, মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কয়রা প্রেসক্লাব সভাপতি মাস্টার সদউদ্দিন আহমেদ, সংগঠনের নির্বাহী সদস্য প্রভাষক নুরুজ্জামান, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, এবং ডেলিভারির সময় মৃত্যুবরণ করা এক প্রসূতির ভাই রাসেল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও কয়রা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, জিএম মোনায়েম বিল্লাহ, মাওলানা সোহরাব হোসেন, সুন্দরবন চ্যারিটির চেয়ারম্যান আবুল হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলোর কয়রা প্রতিনিধি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন

দৈনিক টার্গেট

আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে।

ফলো করুন

কয়রায় স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট নিরসনে অপারেশন চালু, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

কয়রায় স্বাস্থ্যসেবার সংকট নিরসনে সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৯:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যখাতে চরম সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো’র কয়রা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণের জন্য কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীরা যে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন সেগুলো হলো-

১) কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ানসহ অপারেশন কার্যক্রম চালু করা,

২) প্যাথলজি, আলট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে সেবা নিশ্চিত করা,

৩) গাইনী, সার্জারি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল পদায়ন,

৪) চিকিৎসকদের জন্য আবাসিক ভবন ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা,

Google News দৈনিক টার্গেটের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল

৫) ৩১ শয্যার নতুন ভবনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা,

৬) কয়রা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংস্কার ও চিকিৎসক নিয়োগ,

৭) কয়রা সদরে ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ তিন বছর ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান ও অন্যান্য অপারেশন বন্ধ থাকায় প্রসূতি নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন। পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে ছুটতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতাল কার্যত ১৯ শয্যার ভবনে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে, আর নতুন ভবনের নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

তারা আরও জানান, উপজেলায় কোনো নারী চিকিৎসক নেই। শিশু বিশেষজ্ঞ ছাড়া প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সংকট দিন দিন বাড়ছে। আবাসন ও কর্মপরিবেশ অনুপযোগী হওয়ায় পদায়িত চিকিৎসকেরাও স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন না। ফলে কয়েকজন মেডিকেল অফিসারকে বিপুল জনগোষ্ঠীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো’র কয়রা উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন কয়রা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম শাহাবুদ্দিন, মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কয়রা প্রেসক্লাব সভাপতি মাস্টার সদউদ্দিন আহমেদ, সংগঠনের নির্বাহী সদস্য প্রভাষক নুরুজ্জামান, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, এবং ডেলিভারির সময় মৃত্যুবরণ করা এক প্রসূতির ভাই রাসেল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও কয়রা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, জিএম মোনায়েম বিল্লাহ, মাওলানা সোহরাব হোসেন, সুন্দরবন চ্যারিটির চেয়ারম্যান আবুল হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলোর কয়রা প্রতিনিধি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন