খুলনার কয়রা উপজেলায় অবৈধভাবে কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে লোনা পানি প্রবেশ করিয়ে কৃষি ও স্বাভাবিক জনজীবন ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়রার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাথরখালি গ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। লোনা পানির আগ্রাসন বন্ধ এবং অবৈধ কালভার্ট অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাথরখালি গ্রামে শাকবাড়িয়া নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। “লোনা পানি হটাও, কৃষক বাঁচাও” স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিশিষ্টজন ও জনপ্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন জিএম নুর কামাল, ইউপি সদস্য মো. আবু হাসান, মাওলানা সুজাউদ্দিন, মো. জাকির হোসেন, জিএম নুরুজ্জামান, শেখ মফিজুল ইসলাম, আসমাতুল্লাহ আল গালিব ও শ্যামসুন্দর মুন্ডা প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করেন, শাকবাড়িয়া নদী সংলগ্ন পশুরতলা খালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ কেটে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে কালভার্ট নির্মাণ করেছে। ব্যক্তিগত লাভের আশায় তারা কৃষিজমি ও বসতবাড়ির পাশে লোনা পানি ঢুকিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে প্রায় ১২০০ বিঘা আবাদি জমি কৃষি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা একাধিক ফসল ফলাতে পারছেন না। লোনা পানির প্রভাবে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট, অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
লোনা পানির আগ্রাসনে বসতবাড়ির আঙিনায় থাকা গাছপালা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সবুজ এলাকা ধীরে ধীরে বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশি শিশু ও নারীদের মধ্যে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। বেড়িবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ায় যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পশুরতলা খালটি উন্মুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান মিলবে। তারা অবিলম্বে অবৈধ কালভার্ট অপসারণ, লোনা পানি উত্তোলন বন্ধ এবং খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কয়রার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন আরও মারাত্মক সংকটে পড়বে।
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 

















