ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস, ছুটি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঈদে শ্রমিক স্বস্তি নিশ্চিতে নারায়ণগঞ্জে মতবিনিময় সভা

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ এবং ছুটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১০ মে ২০২৬) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিল্প মালিক ও শ্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রায়হান কবির তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। বক্তব্যে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় ঈদকে ঘিরে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও ছুটি নিয়ে প্রতিবারই বাড়তি গুরুত্ব দিতে হয়। সরকার, প্রশাসন, শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, র‍্যাব সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শিল্পাঞ্চলের মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখার নাজির মোঃ কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহদী আমিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও সরকার শ্রমিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঈদের আগে যেন কোনো শ্রমিক বেতন ও বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় না থাকেন, সে বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, ব্যাংকগুলোকে শিল্প মালিকদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নীতিগতভাবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই অর্থ যেন সরাসরি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হয়। শ্রমিকরা সময়মতো বেতন ও উৎসব ভাতা পেলে তাদের পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার পরিবেশও স্থিতিশীল থাকবে।”

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। বক্তারা শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, গুজব বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিল্পাঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত ও ছুটি নিশ্চিত করতেও প্রশাসন কাজ করবে।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা সভায় তাদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা সময়মতো বেতন-বোনাস প্রদান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং ঈদের ছুটিতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় শিল্প মালিক প্রতিনিধিরাও শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন এবং উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, প্রশাসন, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে এবারের ঈদ শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস, ছুটি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঈদে শ্রমিক স্বস্তি নিশ্চিতে নারায়ণগঞ্জে মতবিনিময় সভা

প্রকাশ: ০১:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ এবং ছুটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১০ মে ২০২৬) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিল্প মালিক ও শ্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রায়হান কবির তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। বক্তব্যে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় ঈদকে ঘিরে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও ছুটি নিয়ে প্রতিবারই বাড়তি গুরুত্ব দিতে হয়। সরকার, প্রশাসন, শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, র‍্যাব সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শিল্পাঞ্চলের মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখার নাজির মোঃ কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহদী আমিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও সরকার শ্রমিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঈদের আগে যেন কোনো শ্রমিক বেতন ও বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় না থাকেন, সে বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, ব্যাংকগুলোকে শিল্প মালিকদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নীতিগতভাবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই অর্থ যেন সরাসরি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হয়। শ্রমিকরা সময়মতো বেতন ও উৎসব ভাতা পেলে তাদের পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার পরিবেশও স্থিতিশীল থাকবে।”

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। বক্তারা শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, গুজব বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিল্পাঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত ও ছুটি নিশ্চিত করতেও প্রশাসন কাজ করবে।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা সভায় তাদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা সময়মতো বেতন-বোনাস প্রদান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং ঈদের ছুটিতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় শিল্প মালিক প্রতিনিধিরাও শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন এবং উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, প্রশাসন, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে এবারের ঈদ শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।