Site icon দৈনিক টার্গেট

রিকশা শ্রমিকদের ১২ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা সভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দলসমূহের অঙ্গীকার বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এই সভা আয়োজন করা হয়।

সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভার শুরুতে উপস্থিত অতিথি ও প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পরিবারসহ এই খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটির বেশি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নীতিমালা ও পরিকল্পনার অভাবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

আলোচনায় বলা হয়, রিকশা একটি জ্বালানিবিহীন ও পরিবেশবান্ধব বাহন হওয়া সত্ত্বেও রিকশাচালকদের শ্রম আজও অমানবিক রয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মানুষ দিয়ে মানুষ টানার এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। বক্তারা রিকশাকে বিদ্যুৎচালিত ও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং বলেন, এটি শুধু মানবিক কর্তব্য নয়, বরং পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক।

সভায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান প্রসঙ্গে বক্তারা স্পষ্টভাবে বিআরটিএ’র মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, সড়ক ও পরিবহন আইন অনুযায়ী যান্ত্রিক যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানের এখতিয়ার বিআরটিএ’র, এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও অভিন্ন নীতিমালা নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হবে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।

বক্তারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান দিয়ে লাইসেন্স প্রদানের প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, এতে বৈষম্য, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা আরও বাড়বে। আলোচনায় ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উদ্যোগের সমালোচনা করা হয় এবং নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

সভায় রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো-

রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আধুনিকায়ন, বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা, জরিপের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ, শ্রমিক নির্যাতন ও চাঁদাবাজি বন্ধ, সার্ভিস লেন নির্মাণ, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান, সার্বজনীন পেনশন চালু এবং ‘জীবিকা সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন।

সভায় বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন ও শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। একইসঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সভা শেষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলগুলো শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন-এমন প্রত্যাশা নিয়েই এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন
Exit mobile version