Site icon দৈনিক টার্গেট

স্পিনিং শিল্প রক্ষায় সাত দফা দাবি, সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের স্পিনিং শিল্পের সাথে যুক্ত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের চাকরি রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী রাখার পেছনে স্পিনিং সেক্টরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খাত অভূতপূর্ব সংকটে পড়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বক্তারা উল্লেখ করেন, কাঁচা তুলা থেকে সূতা প্রস্তুত, দক্ষ শ্রমশক্তির ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মাধ্যমে স্পিনিং শিল্প দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রেখে আসছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লক্ষ মানুষ এ খাতের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধজনিত প্রভাব, জ্বালানি সংকট, ডলার অস্থিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এখন স্পিনিং শিল্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রমান্বয়ে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তারা সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।

উপস্থাপিত সাত দফা দাবি:

১. দেশীয় সুতা ব্যবহৃত গার্মেন্টস রপ্তানিতে ১০% প্রণোদনা প্রদান এবং আমদানিকৃত সুতা ও কাপড়ে ১০% সেইফগার্ড ডিউটি আরোপ।

২. অতিরিক্ত গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট সব কারখানাকে ২ বছরের জন্য ৩০% রিবেট প্রদান।

৩. বিদেশি সরকারের ভর্তুকি পাওয়া কমদামী সুতা আমদানির কারণে বাজারে বৈষম্য তৈরি হওয়ায় অ্যান্টি-ডাম্পিং ট্যাক্স / সেইফগার্ড ডিউটি আরোপে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিতকরণ। বক্তারা উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি তাদের বাজার রক্ষায় তিন বছরের বিশেষ শুল্ক আরোপ করেছে।

৪. ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতকে সহায়তা দিতে পূর্বে চালু থাকা ৮ বিলিয়ন ডলারের ইডিএফ ফান্ড সুবিধা আগামী দুই বছরের জন্য পুনর্বহাল করার দাবি।

৫. রপ্তানি পণ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ৭০% কাঁচামাল ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবি।

৬. রিসাইকেল ও সাসটেইনেবল পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত ৫% প্রণোদনা এবং স্পিনিং মিল আধুনিকায়নে ৫% সুদে ১০ বছর মেয়াদি বিশেষ ঋণ প্যাকেজ চালুর প্রস্তাব।

৭. টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কাঁচামাল আমদানির সক্ষমতা কমে যাওয়ায় আমদানির ক্যাপাসিটি পুনর্বৃদ্ধি করে উৎপাদন স্বাভাবিক করার দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে যমুনা গ্রুপের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এবিএম সিরাজুল ইসলাম, আহমেদ গ্রুপের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার শান্তিময় দত্ত, আরমাডা গ্রুপের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, গ্রিনটেক্স স্পিনিংয়ের নির্বাহী পরিচালক রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে স্পিনিং শিল্প আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে যাবে এবং এর সাথে যুক্ত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে।

Exit mobile version