রাজধানীতে “সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ঐক্য” শীর্ষক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের উদ্যোগে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান জননেতা আল্লামা এম. এ. মতিন। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য ন্যায়ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে দেশ ও জনগণের ক্ষতি হচ্ছে, যা থেকে বেরিয়ে এসে দলমত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ইসলাম শান্তি ও ন্যায়ের ধর্ম এর মূল শিক্ষাকে ধারণ করে যদি রাজনীতি পরিচালিত হয়, তবে দুর্নীতি, অন্যায় ও স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটানো সম্ভব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা এম. এ. কাদের। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ফিরে পেতে হলে রাজনীতিকে কল্যাণমুখী করতে হবে। তরুণ সমাজকে নৈতিক শিক্ষা ও সৎ রাজনীতির পথে অনুপ্রাণিত করতে হবে, যাতে তারা দেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা মো. আবুল হাসান, ইসলামী যুবসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মনোয়ার হোসেন, এবং বাংলাদেশ ইসলামিক ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, আজকের রাজনীতিতে মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার চরমভাবে অবক্ষয়ের শিকার। গণতন্ত্রকে টেকসই ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর করতে হলে সব দলকে ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ডে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং তরুণ রাজনৈতিক কর্মীরা। বক্তারা সর্বসম্মতভাবে ঘোষণা দেন যে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা কেবল সরকারের দায় নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
সংলাপে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
সভা শেষে দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দোয়া করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিভিন্ন দল উদ্যোগী হবে।


















