গুলিস্তান জিরো পয়েন্টের সামনে বাম গনতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চার উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সমাবেশে প্রায় ১০০–১২০ জন অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রেসক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় অভিমুখে রওয়ানা হলে পল্টন মোড়ে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন। পরে মিছিলটি পল্টন মোড় থেকে ফিরে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বামধারার সংগঠনের শীর্ষ নেতারা কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা (বাসদ-মার্কসবাদী), ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চার সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ (নাসু), বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সাম্যবাদী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলম মিঠু, বাসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এবং সিপিবির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।
অংশগ্রহণকারীরা সরকারের চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের ইজারা দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দেশের স্বার্থবিরোধী হিসেবে অভিহিত করেন। কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ সমাবেশে বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন এর মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হলে তা সার্বিক জাতীয় স্বার্থকে বিপন্ন করবে। সরকার এই বন্দরের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক–কৌশলগত প্রয়োজনে বন্দর ও করিডোর ব্যবহারের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে এবং স্টারলিংক জাতীয় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কও সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতে পারে ফলে সাধারণ জনগণের স্বার্থে তা গ্রহণযোগ্য নয়। বজলুর রশিদ সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “শাসকরা যদি দেশের স্বার্থে ফিরে না আসে, তাহলে গণ–অভ্যুত্থানের মতো মহাপ্রতিবাদে নামতে বাধ্য হবো।” তিনি ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করার ইঙ্গিত দেন।
বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, “ড. ইউনুসের হাত শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত ইতিমধ্যে সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছে। যদি বন্দর বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তাহলে সরকারের নৈতিক ভিত্তিই নষ্ট হবে।” অন্যান্য বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, বন্দরের এই ব্যবস্থাপনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণের বিরুদ্ধে যেতে পারে এবং বিদেশি ব্যবসায়িক ও সামরিক স্বার্থকে এগিয়ে দিতে পারে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি স্পষ্ট দাবি উত্থাপন করে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশিদের নিকট ইজারা বাতিল করা, বন্দর ও করিডোরের জাতীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া। বক্তারা বলেন, তাদের দাবিতে সরকার যদি কোনো কার্যকর সাড়া না দেয়, তবে তারা যমুনা ঘেরাও, হরতালের মতো কড়া আন্দোলনে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাময়িকভাবে, প্রেসক্লাব থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা পুলিশের বাধায় দেরি হলেও গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে ফিরে এসে সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করা হয়। বাম জোটের পক্ষ থেকে আগামী কর্মসূচি ও সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও সংগঠনের ঘোষণা প্রত্যাশিত।
দৈনিক টার্গেট 


























