খুলনার কয়রা উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উঠে আসা এক মেধাবী শিক্ষার্থীর অনন্য সাফল্যে আজ উচ্ছ্বসিত গোটা এলাকা। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা সুন্দরবন সেকেন্ডারি গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা রুমা ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫.০০ অর্জন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রুমা শুধু ভালো ফল করেননি, তিনি প্রমাণ করেছেন প্রতিকূল অবস্থান, সীমিত সুযোগ কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল কোনোটিই শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না যদি ইচ্ছা, অধ্যবসায় আর স্বপ্ন থাকে সুদৃঢ়। কয়রা-২১৮ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সকল বিষয়ে A+ পেয়েছেন।

কয়রা সুন্দরবন ভ্রমণ- ছবি: দৈনিক টার্গেট
রুমা বলেন “আমার সাফল্যের রহস্য? মায়ের প্রার্থনা, বাবার অবিরাম উৎসাহ আর শিক্ষকদের ত্যাগ।”
রুমার বাবা এম রাকিব হাসান ও মা রাবেয়া খাতুন মেয়ের এই অসাধারণ কৃতিত্বে গর্বিত ও আবেগাপ্লুত। রুমার ভাষায়, “এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে মায়ের প্রার্থনা, বাবার অনুপ্রেরণা আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে।”
বিদ্যালয়ে রুমার সাফল্য উদযাপনে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “রুমা আমাদের গর্ব। তার এই অর্জন আমাদের সব শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
কয়রা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রুমাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “রুমার মতো শিক্ষার্থীরাই কয়রার উন্নয়নের আশা। তার এই অর্জন গোটা উপজেলাকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করেছে।”
রুমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একজন চিকিৎসক হওয়া। তিনি চান গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে নিবেদিত করতে। এরইমধ্যে তিনি ঢাকার একটি শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
স্থানীয়রা তাকে এখন ডাকে “সুন্দরবনের কন্যা” নামে। এই নামে শুধু একটি পরিচয় নয়, রুমা হয়ে উঠেছেন সম্ভাবনার প্রতীক, আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।
রুমার এই সাফল্য স্পষ্ট করে দিয়েছে স্বপ্ন বড় হলে, অধ্যবসায় থাকলে, সীমাবদ্ধতা কখনোই থামাতে পারে না একজন মেধাবীকে। রুমা তার জীবনযাত্রায় যে আলো জ্বালিয়েছেন, তা শত শত শিক্ষার্থীর পথচলায় দিশা হয়ে উঠবে।
দৈনিক টার্গেটের পক্ষ থেকে রুমাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভবিষ্যতের জন্য অফুরন্ত শুভকামনা। আমরা প্রত্যাশা করি এই সুন্দরবনের কন্যাই একদিন হয়ে উঠবেন মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।















Leave a Reply