দীর্ঘ সময়ের দাবি ও আন্দোলনের পর অবশেষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্র সংসদ শাকসু নির্বাচনের দিন চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৯টায় উপাচার্যের দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এ তারিখ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া, পরিস্থিতির বিশ্লেষণ এবং আলোচনার পরই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। উপাচার্যের ভাষায়, “শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য।”
তারিখ ঘোষণার আগের দিন উত্তেজনা
ঘোষণার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পুরো ক্যাম্পাস ছিল টানটান উত্তেজনায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা রেজিস্ট্রার ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং পরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে-
“শাকসু আমার অধিকার”, “উই ওয়ান্ট শাকসু”, “ইলেকশন কমিশন চাই” এমন স্লোগানে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই উপাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা পরদিন নির্বাচন–তারিখ ঘোষণা করার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
২৬ বছর পর আবার নির্বাচন
শাবিপ্রবিতে সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। প্রায় ২৬ বছর ধরে ছাত্রসমাজ নিয়মিতভাবে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। দীর্ঘ এই বিরতিতে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক চর্চা স্থবির হয়ে পড়েছিল বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। নতুন তারিখ ঘোষণায় তারা মনে করছেন, অবশেষে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
আগামী পদক্ষেপ
উপাচার্য জানিয়েছেন, দ্রুতই নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা প্রস্তুত, এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই নির্বাচন শুধু নতুন নেতৃত্বই দেবে না বরং ক্যাম্পাসে তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
দৈনিক টার্গেট 
















