বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যের জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাশার, যিনি বরাবরই সমাজ-রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি গভীর মনোযোগী, এবার তার এক সমাজচিন্তাপ্রবণ পোস্টের মাধ্যমে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নিজের মর্মস্পর্শী অনুভূতিগুলো প্রকাশ করে তিনি নিজের জন্মভূমিকে ‘সকল বাটপারের তীর্থভূমি’ বলে অভিহিত করেছেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে।
একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে খায়রুল বাশার বলেন, “এই দেশটা এক অনন্য শত্রুর দেশ! দলের বিপক্ষে দল, মানুষের বিপক্ষে মানুষ!” এই বাক্যগুলোতে তিনি দেশের গভীর রাজনৈতিক বিভাজন ও দ্বন্দ্বের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। তার মতে, ‘আমরা তাদের পিছনে নাচি, মরি, কাটাকাটি করি’, যা আমাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থা ও সাধারণ মানুষের মানসিক বিভ্রাটের প্রতিফলন।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি তার ক্ষোভও স্পষ্ট, যেখানে তিনি লিখেছেন, “রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে কিছুই ঠিক হবে না।” এভাবেই খায়রুল বাশার দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অবসান ও জনগণের দুরবস্থার জন্য নেতৃত্বদের দায়ী করেছেন।
আরো এক ধাপ এগিয়ে তিনি তুলে ধরেছেন সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার কাহিনী। ‘একজন ডাক্তার, একজন সাংবাদিক, একজন শিক্ষক মরলেও কেউ বলে না মানুষ মরছে। এভাবে মানুষ মারা চলবে না।’ – এই বক্তব্য দিয়ে তিনি সমাজের অবহেলা ও মানুষের জীবনের মূল্যহীনতার প্রতি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
সবশেষে, তাঁর এই মর্মস্পর্শী বক্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছে “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল বাটপারের তীর্থভূমি আমার জন্মভূমি।”
বিভিন্ন মহল থেকে খায়রুল বাশারের এই পোস্ট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেউ বলছেন, “খায়রুল বাশার যা বলেছেন, সেটাই আমাদের সবার মনের কথা।” আবার অনেকে মনে করছেন, অভিনেতার এই বক্তব্য অতিরঞ্জিত ও বিতর্কিত।
অবশ্য, যাই হোক, একজন শিল্পী হিসেবে খায়রুল বাশার যে শুধু নাটকে নয়, বাস্তব জীবনের নানা সংকট ও অসঙ্গতির প্রতি অবিচল মনোযোগী ও সরব, তা সবাই মেনে নিতে বাধ্য। তার এই বেদনাময় অভিব্যক্তি দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক কঠিন প্রতিবিম্ব।
এভাবেই খায়রুল বাশার নিজের জন্মভূমির ব্যর্থতা ও মানুষের দুঃখ-কষ্ট তুলে ধরে গভীর চিন্তার আলো ছড়াচ্ছেন। তার এই পোস্ট নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছেই, আর এটাই প্রমাণ যে, খায়রুল বাশার নীরব দর্শক নন তিনি এই সমাজের কথা বলতে নির্ভয়ে সামনে দাঁড়িয়ে।
দৈনিক টার্গেট 














