নিশ্চুপ বৃষ্টি গান থেকে ফ্যাশনে যাত্রা শুরু
বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনে মিষ্টি ও সুরেলা কণ্ঠের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত নিশ্চুপ বৃষ্টি। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই শিল্পী শুধু গানের জন্য নয়, এবার নতুন পরিচয়ে হাজির হয়েছেন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে।
বৃষ্টির জনপ্রিয়তার গল্প শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে, যখন তিনি ‘বাংলাদেশি আইডল’ প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অর্জন করে আলোচনায় আসেন। এরপর থেকে একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ইমরানের সঙ্গে দ্বৈত গান ‘যদি হাতটা ধরো’, ‘বলো সাথিয়া’, ‘আজ ভালোবাসো না’, আরিফিন রুমীর সঙ্গে ‘প্রেমেরই হরফে’ সহ আরও অনেক গান। এছাড়া জামাল হোসেনের লেখা তার নিজের নামে ‘বৃষ্টি’ শিরোনামের গানটিও শ্রোতাদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।
গানের মঞ্চে দেশ-বিদেশে সমানভাবে সফল এই শিল্পী বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালি, জাপান, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, সৌদি আরব ও কাতারে স্টেজ শো করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
তবে বৃষ্টির জীবনের গল্প সবসময় সহজ ছিল না। মাত্র ২০০১ সালে বোমা হামলায় হারিয়েছেন তার বাবাকে, যিনি ছিলেন তার প্রথম সংগীত শিক্ষক। পরে তার মা হামিদা ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত শিক্ষক তাকে পথ দেখিয়েছেন। বাবাকে হারানোর পর মায়ের অনুপ্রেরণাতেই তিনি সংগীতে এগিয়ে যান। একসময় দুবাইয়ে থাকলেও মায়ের অসুস্থতার কারণে এখন স্থায়ীভাবে নারায়ণগঞ্জেই আছেন।
গানের পাশাপাশি বৃষ্টি এবার যুক্ত হলেন ফ্যাশন উদ্যোক্তা হিসেবে। নিজের অনলাইন ক্লথিং ব্র্যান্ড ‘বি এলিগেন্স’ নিয়ে শুরু করলেন নতুন যাত্রা। শৈশব থেকেই ফ্যাশন ডিজাইনের প্রতি আগ্রহী বৃষ্টি বলেন,
“ছোটবেলা থেকেই ড্রেস ডিজাইন করতে ভালোবাসতাম। নাইন-টেন ক্লাস থেকেই নিজের ডিজাইন করা জামা পরতাম। সবাই পছন্দ করত। একসময় আঁকা ডিজাইন বিক্রি করতাম। সেই শখ থেকেই এখন এই উদ্যোগ।”
বৃষ্টির ব্র্যান্ডে থাকবে মূলত তার নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক। তিনি জানান, অনলাইনে বিক্রি হওয়া ৭৫ শতাংশ ডিজাইনই তার নিজের তৈরি। পাশাপাশি থাকবে কিছু ট্রেন্ডি কালেকশনও। শুরু থেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছেন তিনি।
গানের পাশাপাশি ফ্যাশন ব্যবসা নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছেন বৃষ্টি। তিনি বলেন, “বি এলিগেন্সকে বড় করতে চাই। আমার স্বামী জাহিদুল ইসলাম এ কাজে আমাকে অনেক সমর্থন দিচ্ছেন, এজন্য তাকে বিশেষ ধন্যবাদ।”
উল্লেখ্য, নিশ্চুপ বৃষ্টির প্রথম প্লেব্যাক ছিল ‘হৃদয় জুড়ে’ সিনেমায়। বর্তমানে গান ও ব্যবসা দুটিই সমানভাবে সামলাচ্ছেন এই প্রতিভাবান শিল্পী।
