ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন- থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন রহমান, এএসআই বিপ্লু বড়ুয়া এবং কনস্টেবল সাহাবুদ্দিন, মস্তু, সাকিবুল ও জহির মিয়া।
স্থানীয় সূত্র এবং হাইওয়ে পুলিশ জানা যায়, গত ৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে সিলেট থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া একটি কাভার্ড ভ্যান খাঁটিহাতা এলাকায় থামানো হয়। পুলিশের একটি দল অভিযোগ তোলে যে, গাড়িটিতে অবৈধ পণ্য রয়েছে। এর জেরে গাড়িচালকের নিকট থেকে ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠে।
এই ঘটনাটি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসার পর এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক এবং সমালোচনা সৃষ্টি হয়। জনমতের চাপে পুলিশ সদর দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন- ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার ভিত্তিতে ছয়জনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরাধের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়েছেন এসআই মো. সজীব মিয়া। তিনি জানিয়েছেন- অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কার কী ভূমিকা ছিল, তদন্তের মাধ্যমেই তা নির্ধারিত হবে।
এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ পুলিশের পেশাগত দায়িত্ববোধ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারকেই প্রমাণ করে। জনসাধারণ এই ঘটনায় সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন প্রয়োগের নামে এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়।