Site icon দৈনিক টার্গেট

অপ্রয়োজনীয় সিজারে বিপদে মায়েরা

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই সিজারিয়ান ডেলিভারির হার আশঙ্কাজনকভাবে হারে বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে এই অস্ত্রোপচার জীবনরক্ষাকারী হতে পারে, সেখানে অপ্রয়োজনে সিজার শুধু মা ও শিশুর জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সাধারণত সিজারিয়ান অপারেশনের সময় স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়, যা মেরুদণ্ডে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। এই ইনজেকশন সাধারণত একজন প্রশিক্ষিত অ্যানেস্থেটিস্ট দেন যিনি নারী বা পুরুষ যে কেউ হতে পারেন। তবে সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে নারী রোগীদের জন্য নারী ডাক্তার রাখার চেষ্টা করা হলেও সবসময় তা সম্ভব হয় না।

অনেকেই অভিযোগ করছেন, অকারণে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সিজারিয়ান ডেলিভারির পরামর্শ দিচ্ছে। কোনো কারণ দেখানোর জন্য বলা হয়।

১. বাচ্চা পেটে পায়খানা করেছে।

২. পানিশূন্যতা হয়েছে।

৩. বাচ্চার পজিশন উল্টো।

এই ডায়ালগগুলো একধরনের মানসিক চাপ তৈরি করে, যাতে পরিবার সদস্যরা তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচারে রাজি হয়।

অনেক পরিবারই অভিযোগ করেন, সিজারের পর যে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী দেওয়া হয়, তার সবগুলোর প্রকৃত ব্যবহার ও খরচ যাচাই করার উপায় নেই। ফলে বিল বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া, এমনকি ওটি-তে ব্যবহৃত না হওয়া ওষুধ পরে ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিজারের পরে অনেক মা দীর্ঘমেয়াদী কোমর ব্যথা, হাঁটুর সমস্যা, হাড় ক্ষয় ইত্যাদি জটিলতায় ভুগছেন। কিন্তু এসব সমস্যার সুরাহা বা ফলোআপ চিকিৎসা নেই অধিকাংশ হাসপাতালেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনে সিজার করালে পরবর্তীতে শরীরিক সক্ষমতা কমে যায়, এবং গর্ভধারণ, ডেলিভারি ও হাড়ের গঠনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একদিকে যেমন অপারেশনের খরচ বহন করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কষ্টকর, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক দুর্বলতাও তাদের জীবনমানকে সংকটে ফেলছে।

প্রসঙ্গত, আমাদের দাদা-দাদী বা নানী-নানারা অনেক শক্তিশালী ছিলেন। তখনকার খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, বিশুদ্ধ খাবার, পরিবেশ সবকিছুই ছিল স্বাস্থ্যবান প্রজন্ম তৈরির পক্ষে সহায়ক। আজ আমরা সহজ জীবন চাইতে গিয়ে নিজেদের প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য ক্ষমতাকেই দুর্বল করে ফেলেছি।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন সময় এসেছে পুরো প্রসব ব্যবস্থাকে একটি নীতিগত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার। সরকারি নজরদারি, ডেলিভারি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, হাসপাতাল বিল অডিট এবং মা ও নবজাতকের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করলেই এই অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।

সিজার করতেই হবে এই ভীতি থেকে মুক্ত হতে হবে পরিবারগুলোকে। একজন মা ও শিশুর নিরাপদ জন্মের জন্য যে পথই বেছে নেওয়া হোক, সেটি যেন হয় বাস্তব প্রয়োজন এবং সৎ চিকিৎসা বিচারের ভিত্তিতে এই হোক আমাদের সম্মিলিত প্রত্যয়।

Exit mobile version