আজকের ব্যস্ত জীবনে ঘুমের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, মানসিক দুশ্চিন্তা এবং দৈনন্দিন দায়িত্বের কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম পান না।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যাটি আরো বেশি প্রকট। চিকিৎসকদের মতে, পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি ঘুমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কেন এমনটা ঘটে?
কেন নারীর ঘুম বেশি প্রয়োজন?
গবেষণা বলছে, একজন নারীর ঘুম সাধারণত হালকা হয়, ফলে ছোটখাটো কারণেই ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অন্যদিকে পুরুষরা তুলনামূলকভাবে গভীর ঘুমে থাকে। এছাড়া নারীরা একসঙ্গে একাধিক কাজ করেন বাইরের কাজের পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও সামলাতে হয়। এই অতিরিক্ত মানসিক চাপ ঘুমের মান নষ্ট করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হরমোনের ওঠানামা, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পরের সময় এবং মাসিক চক্রের মতো বিষয়ও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতেও নারীর পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য।
‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ নারী অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন। নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত হলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়।
ঘুমের ঘাটতি পূরণে কী করবেন?
১. ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমান
ঘুমানোর আগে ফোন, টিভি বা ল্যাপটপ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
২. দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন
শোয়ার আগে মাথা থেকে দুশ্চিন্তা দূর করা জরুরি। চাইলে প্রতিদিনের কাজ এবং চিন্তার বিষয়গুলো লিখে রাখতে পারেন। এতে মানসিক চাপ কমবে।
৩. খাবারের দিকে খেয়াল রাখুন
ক্যাফিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন কফি বা চকলেট রাতে না খাওয়াই ভালো। শোয়ার অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে এগুলো এড়িয়ে চলুন। এছাড়া হালকা খাবার খেতে চেষ্টা করুন, কারণ ভারী ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার হজমের সমস্যার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
৪. আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ করুন
ঘুমের আগে উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে থাকুন। চাইলে হালকা সুরের গান চালাতে পারেন, তবে হেডফোন ব্যবহার করবেন না।
ঘুম শরীরের জন্য খাদ্য ও পানির মতোই অপরিহার্য। তাই সুস্থ থাকতে হলে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি আরও বেশি জরুরি, কারণ ঘুমের অভাব মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

















