জরিপে দেখা গেছে ভুল বোঝাবুঝি ও পারস্পরিক অসম্মানই তালাকের প্রধান কারণ, দ্বিতীয় বিয়েতেও নারীরা বেশি অসুখী

বাংলাদেশে তালাক প্রবণতা: জরিপে উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
  • ৩২৬ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান তালাকের প্রবণতা নিয়ে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিসংখ্যান। গত ৯ মাস ধরে মোট ২৪৫ জন তালাকপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষের সাথে কথা বলে এ জরিপ পরিচালনা করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত গবেষক এসএম শহিদুল ইসলাম বাবলু। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, তালাকের মূল কারণগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও পারস্পরিক অসম্মান প্রধান ভূমিকা রাখছে।

জরিপে দেখা যায়, মোট ৭২ শতাংশ তালাক ঘটেছে দাম্পত্য জীবনে ভুল বোঝাবুঝি এবং একে অপরকে যথাযথ সম্মান না দেওয়ার কারণে। এছাড়া, ১৮ শতাংশ তালাকের কারণ ছিল পরকীয়া সম্পর্ক এবং ১০ শতাংশ ঘটেছে স্ত্রীর বিলাসী জীবনযাপনের কারণে।

অংশগ্রহণকারীদের মতামত অনুযায়ী, তালাকের ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে বেশি। মোট ঘটনার ৭৮ শতাংশে নারীর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ২২ শতাংশ ক্ষেত্রে দায় পুরুষের।

অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য হলো, তালাকের পর ৯২ শতাংশ নারী-পুরুষই অনুতপ্ত হয়েছেন এবং বলেছেন যে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। জরিপে পাওয়া গেছে, ৮৯ শতাংশ তালাকপ্রাপ্ত নারী পুনরায় বিয়ে করতে পারেননি। মাত্র ৪ শতাংশ নারী বিয়ের প্রতি অনিহা প্রকাশ করেছেন এবং ৭ শতাংশ নারী ভ্রষ্ট পথে চলে গেছেন।

অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। তালাকপ্রাপ্ত ৮৫ শতাংশ পুরুষ পুনরায় বিয়ে করে সংসার করছেন, মাত্র ১৩ শতাংশ বিয়ের প্রতি অনিহা দেখিয়েছেন এবং ২ শতাংশ ভ্রষ্ট পথে গেছেন।

দ্বিতীয় বিবাহ সম্পর্কেও জরিপে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর ১২ শতাংশ নারী আবারও তালাকের শিকার হয়েছেন এবং ৮৯ শতাংশ নারী অসুখী সংসার করছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ফলাফল দেখা যায়- মাত্র ২ শতাংশ পুরুষ দ্বিতীয়বার তালাক দিয়েছেন এবং ৩ শতাংশ অসুখী সংসারে রয়েছেন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দ্বিতীয়বার তালাকপ্রাপ্ত পুরুষদের স্ত্রী প্রায় সবাই আগে তালাকপ্রাপ্ত নারী ছিলেন। বিপরীতে, যারা বিধবা নারীকে বিয়ে করেছেন তাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ পুরুষ সংসার জীবনে সুখী বলে জানিয়েছেন।

গবেষক এসএম শহিদুল ইসলাম বাবলু জানিয়েছেন, তিনি তালাকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন এবং এ সমস্যায় পড়া মানুষদের পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে সাহায্য করতে চান। তিনি বলেন-

“তালাক দেওয়ার আগে ভেবে দেখুন, বারবার চিন্তা করুন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সুযোগ আছে কিনা তা যাচাই করুন। কারণ, পরিবার ভেঙে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও সন্তানরা।”

এই জরিপ স্পষ্ট করে যে তালাক শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রভাবিত করে। তাই দাম্পত্য জীবনে সহমর্মিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সমঝোতার গুরুত্ব অপরিসীম।

 

জরিপে দেখা গেছে ভুল বোঝাবুঝি ও পারস্পরিক অসম্মানই তালাকের প্রধান কারণ, দ্বিতীয় বিয়েতেও নারীরা বেশি অসুখী

বাংলাদেশে তালাক প্রবণতা: জরিপে উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য

প্রকাশ: ০৯:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান তালাকের প্রবণতা নিয়ে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিসংখ্যান। গত ৯ মাস ধরে মোট ২৪৫ জন তালাকপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষের সাথে কথা বলে এ জরিপ পরিচালনা করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত গবেষক এসএম শহিদুল ইসলাম বাবলু। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, তালাকের মূল কারণগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও পারস্পরিক অসম্মান প্রধান ভূমিকা রাখছে।

জরিপে দেখা যায়, মোট ৭২ শতাংশ তালাক ঘটেছে দাম্পত্য জীবনে ভুল বোঝাবুঝি এবং একে অপরকে যথাযথ সম্মান না দেওয়ার কারণে। এছাড়া, ১৮ শতাংশ তালাকের কারণ ছিল পরকীয়া সম্পর্ক এবং ১০ শতাংশ ঘটেছে স্ত্রীর বিলাসী জীবনযাপনের কারণে।

অংশগ্রহণকারীদের মতামত অনুযায়ী, তালাকের ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে বেশি। মোট ঘটনার ৭৮ শতাংশে নারীর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ২২ শতাংশ ক্ষেত্রে দায় পুরুষের।

অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য হলো, তালাকের পর ৯২ শতাংশ নারী-পুরুষই অনুতপ্ত হয়েছেন এবং বলেছেন যে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। জরিপে পাওয়া গেছে, ৮৯ শতাংশ তালাকপ্রাপ্ত নারী পুনরায় বিয়ে করতে পারেননি। মাত্র ৪ শতাংশ নারী বিয়ের প্রতি অনিহা প্রকাশ করেছেন এবং ৭ শতাংশ নারী ভ্রষ্ট পথে চলে গেছেন।

অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। তালাকপ্রাপ্ত ৮৫ শতাংশ পুরুষ পুনরায় বিয়ে করে সংসার করছেন, মাত্র ১৩ শতাংশ বিয়ের প্রতি অনিহা দেখিয়েছেন এবং ২ শতাংশ ভ্রষ্ট পথে গেছেন।

দ্বিতীয় বিবাহ সম্পর্কেও জরিপে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর ১২ শতাংশ নারী আবারও তালাকের শিকার হয়েছেন এবং ৮৯ শতাংশ নারী অসুখী সংসার করছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ফলাফল দেখা যায়- মাত্র ২ শতাংশ পুরুষ দ্বিতীয়বার তালাক দিয়েছেন এবং ৩ শতাংশ অসুখী সংসারে রয়েছেন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দ্বিতীয়বার তালাকপ্রাপ্ত পুরুষদের স্ত্রী প্রায় সবাই আগে তালাকপ্রাপ্ত নারী ছিলেন। বিপরীতে, যারা বিধবা নারীকে বিয়ে করেছেন তাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ পুরুষ সংসার জীবনে সুখী বলে জানিয়েছেন।

গবেষক এসএম শহিদুল ইসলাম বাবলু জানিয়েছেন, তিনি তালাকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন এবং এ সমস্যায় পড়া মানুষদের পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে সাহায্য করতে চান। তিনি বলেন-

“তালাক দেওয়ার আগে ভেবে দেখুন, বারবার চিন্তা করুন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সুযোগ আছে কিনা তা যাচাই করুন। কারণ, পরিবার ভেঙে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও সন্তানরা।”

এই জরিপ স্পষ্ট করে যে তালাক শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রভাবিত করে। তাই দাম্পত্য জীবনে সহমর্মিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সমঝোতার গুরুত্ব অপরিসীম।