মৃত্যুকে সাধারণত জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে এখন এটি কেবলই একটি প্রাকৃতিক রূপান্তর, যার মাধ্যমে অন্য কারও জীবনে আলো জ্বালানো সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলেও শরীরের অনেক অঙ্গ ও কোষ কিছু সময়ের জন্য কার্যক্ষম থাকে এবং সঠিক সময়ে সংরক্ষণ ও প্রতিস্থাপন করলে তা অনায়াসে নতুন জীবন দান করতে পারে।
মৃত্যুর পর শরীর ধাপে ধাপে নিস্তেজ হলেও, সব অঙ্গ একসঙ্গে অকেজো হয় না। যেমন, চোখের কর্নিয়া ৪–৬ ঘণ্টা এবং হৃদযন্ত্র মাত্র ৪–৬ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিস্থাপনযোগ্য। যকৃত (লিভার) ৮–১২ ঘণ্টা, আর কিডনি কার্যকর থাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত। এমনকি ত্বক ও হাড় ৫ বছর এবং হৃদযন্ত্রের ভালভ ১০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা সম্ভব।
এইসব অঙ্গ ও টিস্যু মৃত্যুর পরও জীবিত থাকে মূলত কোষীয় স্তরে জীবনীশক্তি বজায় থাকার কারণে। সিয়াটল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার নোবলের মতে, মৃত্যুর পরও কোষগুলি নিজেরা বাঁচার চেষ্টা করে, বিশেষ করে স্টেম সেলগুলো। অর্থাৎ, সঠিক সময়ে এবং উপায়ে অঙ্গ সংগ্রহ করলে তা নতুন প্রাণ দান করতে পারে।
একজন মৃতদাতার দুটি কিডনি, লিভার, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও কর্নিয়া মোট পাঁচজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম। অথচ বাংলাদেশে মরণোত্তর অঙ্গদানের হার অত্যন্ত কম। মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক ভুল ধারণা এর প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইসলামসহ সব প্রধান ধর্মে জীবন রক্ষাকে পরম দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয় এবং অঙ্গদানকে একটি মহান মানবিক কাজ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হয়েছে।
ডাক্তার ছুন্নত আলী বলেন, “মৃতদেহ মাটিতে পচে যাওয়ার চেয়ে অঙ্গদান করে যদি একটি প্রাণ বাঁচানো যায়, তবে তা নিঃসন্দেহে একটি পুণ্যের কাজ।”
বর্তমানে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ব্রেন ডেথ শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত অঙ্গ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সুযোগের অভাব। সেইসঙ্গে প্রয়োজন আইনি কাঠামো- প্রশিক্ষিত কর্মী এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
সমাজের সবাইকে সচেতন করে এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি যে, “মৃত্যুই যদি অবধারিত হয়, তবে অঙ্গদান হতে পারে দ্বিতীয় জীবনের আলো”। এখন সময় এসেছে এই মানবিক ও বিজ্ঞানের সম্মিলিত চেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার।
















Leave a Reply