ঈদ উৎসবের আমেজ শেষ হলেও রাজধানীর বাজারে স্বস্তির দেখা মিলছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। অনেকেই বলছেন, আয় বাড়েনি-কিন্তু খরচ বেড়েই চলেছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের পর দাম কমার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ও রায়েরবাজার এলাকায় অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনো নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ২০০ টাকার নিচে প্রায় কোনো মাছই মিলছে না। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই মাছের দাম আকারভেদে ২৪০ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত উঠানামা করছে। এছাড়া মৃগেল, টেংরা, চিংড়ি, শোল, কই ও শিং মাছের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি।
মাংসের বাজারেও একই চিত্র। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে এলেও তা এখনও স্বস্তিদায়ক নয়-বর্তমানে কেজিপ্রতি প্রায় ১৯৫ টাকা। আর সোনালি মুরগির দাম প্রায় ৩৪০ টাকায় পৌঁছেছে, যা অনেকের জন্য বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।
বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, ঈদের সময় বাড়তি দামের চাপ থাকলেও তারা আশা করেছিলেন উৎসব শেষে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবে সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিনের বাজার করা এখন আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে গেছে।
অন্যদিকে সবজির বাজারেও নেই স্বস্তি। বেশিরভাগ সবজির দাম ঈদের আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। ঢ্যাঁড়শ, পটোল, মরিচ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা-প্রায় সবকিছুর দাম ১০০ টাকার আশেপাশে বা তার ওপরে। করলা ও বেগুনের মতো কিছু সবজির দাম আরও বেশি। লেবু, টমেটোসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও তুলনামূলকভাবে উঁচুতে রয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজারে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তাদের মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনাও কম।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ঈদ শেষ হলেও বাজারে দামের চাপ কমেনি। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।