Site icon দৈনিক টার্গেট

পরমাণু বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. এম শমশের আলীর ইন্তেকাল: জাতি হারালো এক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মনীষী

এম শমশের আলী

বাংলাদেশের বিজ্ঞানে, শিক্ষায় এবং চিন্তাচর্চায় অনন্য অবদান রাখা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ইসলামী চিন্তাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য প্রফেসর ড. এম শমশের আলী আমাদের মাঝে আর নেই।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর এই মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং জ্ঞানের অঙ্গনে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

ড. শমশের আলীর কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যময়, গৌরবময় এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জনপ্রিয় ও গুণী অধ্যাপক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিলেন বিশেষভাবে শ্রদ্ধার পাত্র। পদার্থ বিজ্ঞানের জটিল ধারণাগুলো তিনি সহজ করে উপস্থাপন করতেন, আর একইসাথে ইসলামিক চিন্তাচর্চার আলোকে বিজ্ঞানকে বিশ্লেষণ করে তুলে ধরতেন। তিনি ছিলেন বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য সেতুবন্ধন, যা আমাদের সমাজে খুব কম দেখা যায়।

বাংলাদেশে দূরশিক্ষার বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের কাছে উচ্চশিক্ষাকে সহজলভ্য করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। তার নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি দেশের হাজারো ঝরে পড়া শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, গৃহিণী এবং প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষার দরজা খুলে দেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে আলোকিত করছে।

ড. শমশের আলীর গবেষণা, লেখালেখি ও বক্তৃতা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর লিখিত বই ও প্রবন্ধগুলো বিজ্ঞান, সমাজ ও ধর্মের মেলবন্ধনে দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক। তিনি ছিলেন এমন একজন মনীষী, যিনি সারাজীবন জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত থেকেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে শোকাহত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন এই প্রার্থনাই সবার। ড. এম শমশের আলীর মতো মনীষীরা শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁদের কর্ম ও আদর্শ যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় থাকে। তিনি মরে গিয়েও বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হৃদয়ে। তাঁর কীর্তি এবং দর্শন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে যাবে।

Exit mobile version