Site icon দৈনিক টার্গেট

শিশুদের স্মরণে শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে বিমান বাহিনী প্রধান

গত ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচ জন নিষ্পাপ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় আজ ২৫ জুলাই শুক্রবার, সেই শোকাবহ মুহূর্তে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সম্মানিত প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি।

তিনি তাঁর সহধর্মিণী সালেহা খানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার তুরাগ এলাকায় নিহত শিক্ষার্থীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন উমায়ের নূর আসফিক (১১), বোরহান উদ্দীন বাপ্পী (০৯), মোঃ মাহিত হাসান আরিয়ান (১৩), তাহিয়া আশরাফ নাজিয়া (১৩) এবং আরিয়ান আশরাফ নাফি (০৯)।

পরিবারগুলোর বাড়িতে পৌঁছে বিমান বাহিনী প্রধান গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, “এই শোক ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তবে একজন পিতা ও অভিভাবক হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” কোমলমতি শিশুদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ পরিদর্শনের সময় তিনি একপর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং নিহত শিক্ষার্থীদের পিতাদের জড়িয়ে ধরেন।

শুধু দায়িত্বশীল পদাধিকারী নয়, বরং একজন মানবিক মানুষ হিসেবে এয়ার চীফ মার্শালের এই উপস্থিতি শোকাহত পরিবারগুলোকে সামান্য হলেও মানসিক শক্তি দেয়।

তার সহধর্মিণী সালেহা খানও একইভাবে শোকাহত মায়েদের পাশে দাঁড়ান। তিনি তাদের কাঁধে হাত রেখে, বুক জড়িয়ে ধরে বেদনার কিছুটা ভাগ করে নেওয়ার আন্তরিক চেষ্টা করেন। তার আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা উপস্থিত সবাইকে নাড়া দেয়।

পরে নিহত শিশুদের স্মরণে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যাতে নিহত শিশুদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন), নিহতদের পরিবারের সদস্যবর্গ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সংবেদনশীল এবং গভীর শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ।

বিমান বাহিনী প্রধান এ সময় প্রতিটি পরিবারকে আশ্বস্ত করে জানান যে, তারা যেন নিজেদের একা ভাবেন না। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী সবসময়ই তাঁদের পাশে থাকবে, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবে।

এই মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কেবল আকাশসীমা রক্ষায় নিয়োজিত নয়, বরং জনগণের বিপদে-আপদে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থলও বটে।

Exit mobile version