জাতির উদ্দেশে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় প্রচারিত ভাষণে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে এই ঘোষণা দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রথম জাতীয় নির্বাচন হবে এই সময়ের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক উৎসব। আমরা এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন শুরুর বার্তা
ভাষণের শুরুতেই ড. ইউনূস স্মরণ করেন গত বছরের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসকে যে দিনটি দেশের স্বৈরাচারী শাসন অবসানের প্রতীক হয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “এক বছর আগের এই দিনে আমাদের তরুণ সমাজ, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রতিরোধে স্বৈরাচার পতনের মুখে পড়ে। সেই সংগ্রামের ফসলই আজকের অন্তর্বর্তী সরকার এবং আসন্ন নির্বাচন।”
তিনি আরো বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের রায়ের পর থেকেই দেশজুড়ে যে ছাত্রআন্দোলন গড়ে ওঠে, তা দমন-পীড়নের মুখেও দমে যায়নি। বরং তা রূপ নেয় এক ঐতিহাসিক গণ-প্রতিরোধে, যার অগ্রভাগে ছিলেন দেশের সাহসী নারী ও তরুণেরা।
ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে ঐকান্তিক উদ্যোগ
নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভোটাধিকার দীর্ঘদিন ধরে হরণ করা হয়েছিল। এ দেশের বহু নাগরিক দীর্ঘ ১৫ বছরেও ভোট দিতে পারেননি। এবার সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের সময়। প্রথমবারের মতো যারা ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি হবে এক স্মরণীয় দিন।”
প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেও উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। “রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভোটের অধিকার দেওয়া হবে আমাদের কর্তব্য। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই এ নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে,” বলেন ড. ইউনূস।
নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “দেশের সর্বত্র নারী ভোটাররা যেন স্বাধীনভাবে ও উৎসাহের সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে।”
নির্বাচনকে জাতীয় উৎসবে রূপ দেওয়ার প্রত্যয়
ভাষণে ড. ইউনূস ভোটের দিনকে ‘ঈদের মতো আনন্দের দিন’ হিসেবে কল্পনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভোটের দিন যেন সবাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান। এখন থেকেই এলাকার ভোটকেন্দ্র কেমন হলে আনন্দময় হয়, তা নিয়ে চিন্তা শুরু করুন।”
তিনি জানান, নির্বাচন যাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হয়, সে লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণের ভিত্তি
ড. ইউনূস ভাষণের শেষভাগে বলেন, “এই নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি রচনা করবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের অংশ হই, দেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে একসঙ্গে এগিয়ে যাই।”