Site icon দৈনিক টার্গেট

রবিবার থেকে হামের টিকা: কারা পাবে?

দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয় নয়-সঠিক তথ্য, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

হামের প্রকৃতি ও সংক্রমণ কীভাবে ঘটে

হাম একটি ভাইরাসজনিত ও অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় যে সূক্ষ্ম ড্রপলেট বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, তার মাধ্যমেই অন্যদের মধ্যে সহজে সংক্রমণ ঘটতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ভাইরাস বাতাসে বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে সক্ষম।

সংক্রমণের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ফলে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি না জেনেই অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে দিতে পারেন।

কী কী লক্ষণ দেখা যায়

হামের প্রাথমিক লক্ষণকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে “৩সি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া (কোরাইজা) এবং চোখ লাল হওয়া (কনজাংকটিভাইটিস)। এগুলোর পাশাপাশি রোগীর উচ্চ জ্বর দেখা দেয়।

পরবর্তীতে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপ্লিক স্পট) দেখা যেতে পারে, যা হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শনাক্তকারী লক্ষণ। এরপর শরীরে লালচে র‍্যাশ শুরু হয়, যা প্রথমে মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং গর্ভবতী নারীরা এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অপুষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে জটিলতা আরও মারাত্মক হতে পারে।

হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) পর্যন্ত হতে পারে, যা জীবনঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

টিকাদান কর্মসূচিতে নতুন সিদ্ধান্ত

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী রোববার থেকে সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে একটি জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে।

এ কর্মসূচিকে দেশের ইতিহাসে স্বল্প সময়ে বাস্তবায়িত একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এর আগে সাধারণভাবে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হতো। তবে নতুন পরিস্থিতিতে বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদেরও টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান শুরু হবে।

প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি টিকা

হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো টিকা গ্রহণ। এমআর (মিসেলস-রুবেলা) এবং এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়। সাধারণত দুই ডোজ টিকা সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো এলাকায় যদি প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ টিকা গ্রহণ করে, তাহলে সেখানে হামের বিস্তার কার্যত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

আক্রান্ত হলে করণীয়

হামে আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। রোগীকে আলাদা রাখা জরুরি, যাতে অন্যরা সংক্রমিত না হয়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

জটিলতা দেখা দিলে-যেমন শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা-তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও সময়মতো টিকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version