মঙ্গলবার , 5 আগস্ট 2025 | [bangla_date]
  1. অপরাধ
  2. আইন
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জাতীয়
  6. দেশজুড়ে
  7. ধর্ম
  8. প্রযুক্তি
  9. বাণিজ্য
  10. বাংলাদেশ
  11. বিনোদন
  12. বিশ্বজুড়ে
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. রাজশাহী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিতঃ ইতিহাসের মোড় ঘোরানো এক বছরের বার্ষিকী

প্রতিবেদক
দৈনিক টার্গেট
আগস্ট 5, 2025 8:58 পূর্বাহ্ন

৫ই আগস্ট, বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস”। এক বছর আগে এই দিনে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে, দেশের রাজনীতিতে ঘটে যায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকার এ দিনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” ঘোষণা করেছে।

এক বছরের মাথায় এবারই প্রথম রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দেশব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, শোকসভা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। সরকার, বিরোধীদল, বুদ্ধিজীবী মহল, শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ জনগণ সকলেই নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে এ দিবসকে স্মরণ করছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসজুড়ে দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তালতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। ৫ আগস্টে culminate হওয়া এই গণজাগরণ আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত এক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যেখানে লাখো মানুষ রাস্তায় নামে। নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু অংশ বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নেয় এবং শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা হারায়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাতের অন্ধকারে দেশ ত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। সেই দিনকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে “দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ” হিসেবে অভিহিত করেছে কেউ কেউ। তবে এই পরিবর্তন শান্তিপূর্ণ ছিল না। সংঘর্ষ, সহিংসতা, এবং প্রাণহানির মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস “জুলাই ঘোষণাপত্র” পাঠ করবেন বলে জানানো হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে আগামী দিনের রূপরেখা, রাজনৈতিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং নির্বাচন নিয়ে সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এ ঘোষণাপত্র নিয়ে আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যদি এই ঘোষণাপত্রে সংবিধানবিরোধী কোনো দিক থাকে, তাহলে তারা তা ঘোরতরভাবে প্রতিহত করবে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ১১৪ জনের মরদেহ শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গণকবরে এই লাশগুলোর উত্তোলন শুরু হবে। পরিবারহীন এই মৃতদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো অনুরোধ করেছে যেন প্রক্রিয়াটি সম্মানের সাথে এবং আইনানুগভাবে পরিচালিত হয়।

গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ১,৫৯৩ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাস, এবং অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো দাবি করেছে, এগুলো একটি “রাজনৈতিক প্রতিশোধ” মাত্র। বর্তমান সরকার অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, “আইনের শাসনের ভিত্তিতে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়।”

“জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” উপলক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আজ সংবাদপত্র অফিসে ছুটি ঘোষণা করেছে। অধিকাংশ দৈনিক আজ ছাপা হয়নি। তবে কিছু অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সংবাদপত্র বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

গণমাধ্যম এই গণঅভ্যুত্থানের আগে-পরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিছু সাংবাদিক গ্রেফতারও হয়েছিল, কেউ কেউ বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখবে।

গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরে দেশের রাজনৈতিক চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করলেও অনেকে এখনও উদ্বিগ্ন বিশেষ করে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা না এলে এই পরিবর্তনের সফলতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে তাদের মত।

বিশেষ করে তরুণ সমাজ, যারা এই গণআন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল তারা চায় একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।

“জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” এখন আর শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক দিক পরিবর্তনের প্রতীক। এ দিবস কেবল একটি সরকারের পতন নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার সূচনাও বয়ে এনেছে। এখন প্রশ্ন হলো এই পরিবর্তন কতটা টেকসই এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা কতটা পূরণ হবে?

আগামী দিনে নতুন সরকার, রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী মহল এবং সাধারণ জনগণ একসাথে এগিয়ে গেলে হয়তো এই আন্দোলনের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার যেন শুধু স্লোগান না থেকে বাস্তবতায় পরিণত হয় এটাই হোক “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস”-এর মূল বার্তা।

সর্বশেষ - বিনোদন

আপনার জন্য নির্বাচিত

শুভ জন্মদিন জহির রায়হান

সুপার ওভারে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান শাহিনস

ইসলামী ব্যাংকের চার সিনিয়র কর্মকর্তা এস আলম গ্রুপের মামলার নির্যাতনের স্বীকার

নীলফামারীতে ছাই-গোবরের স্তুপের আগুনে ভস্মীভূত ছয়টি পরিবারের বসতবাড়ি

লঙ্কায় ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

কপোতাক্ষের চর খুড়ে প্রকৃতিক সম্পদ শামুক উত্তোলন, হুমকিতে বেঁড়েবাঁধ

মীর স্নিগ্ধ বললেন, সাকিবের ঠাঁই জাহান্নামে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

গণছুটিতে যাচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারী; সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা

ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব বাজারে আসছে শাওমির হাইপারওএস