আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের সময় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী এবার থেকে নির্বাচনী প্রচারে ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নতুন বিধান নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আচরণবিধিতে যেসব প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছিল সেগুলো আরপিও-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে আইন অনুযায়ী বিধি ভঙ্গের শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া প্রচার বা অপপ্রচার চালালে শাস্তির আওতায় আসতে হবে। যেহেতু কোন কনটেন্ট এআই-নির্ভর আর কোনটি নয় তা বোঝা কঠিন, তাই এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে প্রার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের প্রচারে ব্যবহৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও লিংক বিস্তারিতভাবে রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে।
প্রচারের নিয়ম-কানুনে বড় পরিবর্তন
পোস্টার ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।
একজন প্রার্থী এক আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার আকার ১৬ ফুটের বেশি হবে না।
ডিজিটাল বিলবোর্ডে আলোর ব্যবহার করা যাবে, তবে আলোকসজ্জা (ইলেকট্রিক ডেকোরেশন) নিষিদ্ধ।
ব্যানার ও ফেস্টুনের সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রচারের সামগ্রী অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হতে হবে; পলিথিন বা রেকসিন ব্যবহার করা যাবে না।
প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
শাস্তির বিধান
নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থী বিধি ভঙ্গ করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। গুরুতর অপরাধে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে, যা এবার সরাসরি আরপিওতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নতুন ধারা: ভোটার স্লিপ ও কমন প্ল্যাটফর্ম
আচরণবিধিতে এবার ভোটার স্লিপ দেওয়ার নিয়ম আইনগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক বা পদের নাম ছাপানো যাবে না।
এ ছাড়া রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে সব প্রার্থীকে এক মঞ্চে এনে ইশতেহার ঘোষণার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভোটাররা এক জায়গায় বসেই সব প্রার্থীর বক্তব্য শুনতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এ ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ যুক্ত করার মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব নির্বাচন আয়োজন করা। নতুন বিধান কার্যকর হলে অতীতের মতো পোস্টার, ব্যানার বা শব্দ দূষণ নির্ভর প্রচার আর দেখা যাবে না, বরং আধুনিক ও দায়িত্বশীল প্রচার-সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।


















