রাজধানীসহ সারাদেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আনতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জ্বালানি সংকটের কারণে কিছু এলাকায় লোডশেডিং বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বৈষম্য কমাতে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মতে, শুধুমাত্র শহরাঞ্চলকে সুবিধা দিয়ে গ্রামীণ জনগণকে কষ্টে রাখা ন্যায়সংগত নয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত থাকলেও বাস্তব সরবরাহে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের পরিকল্পনাগত দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার প্রভাব এখনো বিদ্যমান বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, কৃষি মৌসুম চলমান থাকায় সেচ কার্যক্রম সচল রাখা সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতে গ্যাসের ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় এই খাতের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছে, যার দৃশ্যমান অগ্রগতি শিগগিরই দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের লক্ষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহে সাম্য নিশ্চিত করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও কৃষি কার্যক্রম সচল রাখা।
দৈনিক টার্গেট 























