সচিবালয়ে তদবিরের স্রোত: বদলি-পদায়ন ঘিরে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৪ বার পঠিত হয়েছে

সচিবালয়

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা খাতের বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত সংখ্যক অনুমোদিত প্রবেশপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন সুপারিশ ও আবেদন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের দপ্তরগুলোতে ভিড় করছেন। এতে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিবেশ, যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কক্ষের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন আবেদনকারীরা। কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজন, কেউবা রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশপত্র নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। অনেকের হাতে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারও দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ টাঙ্গাইলের একটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক, যিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন। একইভাবে বিভিন্ন জেলার একাধিক কর্মকর্তা নিজেদের পছন্দের পদ বা প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ করছেন। এতে করে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিদিন শতাধিক বদলি ও পদায়নের আবেদন জমা পড়ছে। গত এক মাসে এমন আবেদনের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। অধিকাংশ আবেদনকারী নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিচ্ছেন, যা অফিস ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অতিরিক্ত চাপের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কাজও বিলম্বিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তদবির সামলাতে গিয়ে নিয়মিত কাজ পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

প্রবেশব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচিবালয়ে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক অনুমোদিত পাশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত মানুষ প্রবেশ করছে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ হলো প্রক্রিয়াগত অস্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব। তারা মনে করেন, বদলি ও পদায়ন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও নীতিমালাভিত্তিক করা গেলে ব্যক্তিগত তদবিরের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

একজন বিশিষ্ট শিক্ষা বিশ্লেষক বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের চাপ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। একটি কাঠামোবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে এবং দুর্নীতিও কমবে।

সার্বিকভাবে, বদলি-পদায়ন ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।

সচিবালয়ে তদবিরের স্রোত: বদলি-পদায়ন ঘিরে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা

প্রকাশ: ০৪:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা খাতের বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত সংখ্যক অনুমোদিত প্রবেশপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন সুপারিশ ও আবেদন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের দপ্তরগুলোতে ভিড় করছেন। এতে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিবেশ, যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কক্ষের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন আবেদনকারীরা। কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজন, কেউবা রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশপত্র নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। অনেকের হাতে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারও দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ টাঙ্গাইলের একটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক, যিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন। একইভাবে বিভিন্ন জেলার একাধিক কর্মকর্তা নিজেদের পছন্দের পদ বা প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ করছেন। এতে করে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিদিন শতাধিক বদলি ও পদায়নের আবেদন জমা পড়ছে। গত এক মাসে এমন আবেদনের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। অধিকাংশ আবেদনকারী নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিচ্ছেন, যা অফিস ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অতিরিক্ত চাপের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কাজও বিলম্বিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তদবির সামলাতে গিয়ে নিয়মিত কাজ পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

প্রবেশব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচিবালয়ে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক অনুমোদিত পাশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত মানুষ প্রবেশ করছে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ হলো প্রক্রিয়াগত অস্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব। তারা মনে করেন, বদলি ও পদায়ন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও নীতিমালাভিত্তিক করা গেলে ব্যক্তিগত তদবিরের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

একজন বিশিষ্ট শিক্ষা বিশ্লেষক বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের চাপ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। একটি কাঠামোবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে এবং দুর্নীতিও কমবে।

সার্বিকভাবে, বদলি-পদায়ন ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।