রাস্তায় জলাবদ্ধতা ও যানজট, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষা

এই রাস্তায় গন্তব্য নয়, শুধু সহ্য করার পথ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৯৮ বার পঠিত হয়েছে

কেরানীগঞ্জ থেকে কদমতলী হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয় এটি প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও জনভোগান্তির বাস্তব প্রতিচ্ছবি। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আজ পরিণত হয়েছে ভাঙা রাস্তা, জলাবদ্ধতা, আবর্জনার পাহাড় ও চিরস্থায়ী যানজটের পথে।

প্রশাসনের কিছু সাময়িক উদ্যোগ থাকলেও সমস্যা রয়ে গেছে অপরিবর্তিত। এখন প্রয়োজন গভীর পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানমুখী পদক্ষেপ।

হালকা বৃষ্টি মানেই নোংরা পানির নদী

বর্ষা তো দূরের কথা, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যায়। ভাঙা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তার অসংখ্য গর্তে জমে থাকা পানি মিশে যায় নর্দমার ময়লার সঙ্গে। পথচারীদের হাঁটতে হয় দুর্গন্ধ আর পচা আবর্জনার পানির ভেতর দিয়ে। এ বাস্তবতা কোনো দুর্ঘটনা নয় এটি অব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক ফল।

যানজট সময় ও জীবনের অপচয়

ধোলাইপাড়, কদমতলী, চুনকুটিয়া কিংবা গুলিস্তান সব জায়গায় একই দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির যানবাহন। রোগী আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সে, শিক্ষার্থী সময়মতো পৌঁছাতে পারে না পরীক্ষার হলে। এই যানজট আর দুর্ঘটনা নয়, এটি প্রতিদিনের বাধ্যতামূলক যাতায়াতের মানসিক যন্ত্রণা।

অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান আছে, ধারাবাহিকতা নেই

২১ অক্টোবর চুনকুটিয়া চৌরাস্তায় মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের রাতের অভিযান ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু তেমন দ্রুতই সেই দোকানগুলো আবার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এতে বোঝা যায়, সমস্যার সমাধান চাইলে শুধু অভিযান নয়, চাই স্থায়ী নজরদারি ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।

এখন কী প্রয়োজন?

যদি সত্যিই উন্নত কেরানীগঞ্জ বা আধুনিক রাজধানীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে প্রশাসনের সামনে কিছু জরুরি করণীয় হলো-

১. দীর্ঘমেয়াদী সড়ক সংস্কার ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ

২. অবৈধ দোকান ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা

৩. রাস্তার পাশে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা

৪. স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিকল্পনা

৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

সমাপনী ভাবনা

কেরানীগঞ্জ থেকে গুলিস্তানের এই সড়ক উন্নত হলে এর সুফল ভোগ করবে লাখো মানুষ শিক্ষার্থী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রোগী, সাধারণ পথচারী সবাই। উন্নয়ন কেবল রঙিন ব্যানার বা একদিনের অভিযান নয়; এটি ধারাবাহিক দায়িত্ব ও কাজের স্বচ্ছতার নাম।

এই সড়ক আমাদের, দায়িত্বও আমাদের। এখন প্রশাসনের দিকে প্রত্যাশা তারা যেন সত্যিকারের স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে আসে।

রাস্তায় জলাবদ্ধতা ও যানজট, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষা

এই রাস্তায় গন্তব্য নয়, শুধু সহ্য করার পথ

প্রকাশ: ০৯:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

কেরানীগঞ্জ থেকে কদমতলী হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয় এটি প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও জনভোগান্তির বাস্তব প্রতিচ্ছবি। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আজ পরিণত হয়েছে ভাঙা রাস্তা, জলাবদ্ধতা, আবর্জনার পাহাড় ও চিরস্থায়ী যানজটের পথে।

প্রশাসনের কিছু সাময়িক উদ্যোগ থাকলেও সমস্যা রয়ে গেছে অপরিবর্তিত। এখন প্রয়োজন গভীর পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানমুখী পদক্ষেপ।

হালকা বৃষ্টি মানেই নোংরা পানির নদী

বর্ষা তো দূরের কথা, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যায়। ভাঙা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তার অসংখ্য গর্তে জমে থাকা পানি মিশে যায় নর্দমার ময়লার সঙ্গে। পথচারীদের হাঁটতে হয় দুর্গন্ধ আর পচা আবর্জনার পানির ভেতর দিয়ে। এ বাস্তবতা কোনো দুর্ঘটনা নয় এটি অব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক ফল।

যানজট সময় ও জীবনের অপচয়

ধোলাইপাড়, কদমতলী, চুনকুটিয়া কিংবা গুলিস্তান সব জায়গায় একই দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির যানবাহন। রোগী আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সে, শিক্ষার্থী সময়মতো পৌঁছাতে পারে না পরীক্ষার হলে। এই যানজট আর দুর্ঘটনা নয়, এটি প্রতিদিনের বাধ্যতামূলক যাতায়াতের মানসিক যন্ত্রণা।

অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান আছে, ধারাবাহিকতা নেই

২১ অক্টোবর চুনকুটিয়া চৌরাস্তায় মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের রাতের অভিযান ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু তেমন দ্রুতই সেই দোকানগুলো আবার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এতে বোঝা যায়, সমস্যার সমাধান চাইলে শুধু অভিযান নয়, চাই স্থায়ী নজরদারি ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।

এখন কী প্রয়োজন?

যদি সত্যিই উন্নত কেরানীগঞ্জ বা আধুনিক রাজধানীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে প্রশাসনের সামনে কিছু জরুরি করণীয় হলো-

১. দীর্ঘমেয়াদী সড়ক সংস্কার ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ

২. অবৈধ দোকান ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা

৩. রাস্তার পাশে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা

৪. স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিকল্পনা

৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

সমাপনী ভাবনা

কেরানীগঞ্জ থেকে গুলিস্তানের এই সড়ক উন্নত হলে এর সুফল ভোগ করবে লাখো মানুষ শিক্ষার্থী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রোগী, সাধারণ পথচারী সবাই। উন্নয়ন কেবল রঙিন ব্যানার বা একদিনের অভিযান নয়; এটি ধারাবাহিক দায়িত্ব ও কাজের স্বচ্ছতার নাম।

এই সড়ক আমাদের, দায়িত্বও আমাদের। এখন প্রশাসনের দিকে প্রত্যাশা তারা যেন সত্যিকারের স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে আসে।