দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:১৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪৭ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

দলীয় সূত্র ও পারিবারিক ঘনিষ্ঠদের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।

এর আগে সোমবার গভীর রাতে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। সে সময় চিকিৎসকরা জানান, তিনি অত্যন্ত সংকটজনক সময় পার করছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছিল।

গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তার শারীরিক জটিলতার মধ্যে লিভার ও কিডনি সমস্যা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিসসহ নানা ধরনের সংক্রমণজনিত অসুস্থতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে এবং মাতৃকূলের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ী এলাকায়। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল খালেদা খানম, তবে পরিবারের কাছে তিনি ‘পুতুল’ নামেই পরিচিত ছিলেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি সেন্ট যোসেফ কনভেন্টে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন পরিপাটি ও রুচিশীল। পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যবোধ ছিল তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফুল ভালোবাসতেন এবং নিজের আশপাশ সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করতেন যার প্রতিফলন তার সার্বিক জীবনযাপনেও দেখা গেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

প্রকাশ: ০৮:১৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

দলীয় সূত্র ও পারিবারিক ঘনিষ্ঠদের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।

এর আগে সোমবার গভীর রাতে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। সে সময় চিকিৎসকরা জানান, তিনি অত্যন্ত সংকটজনক সময় পার করছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছিল।

গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তার শারীরিক জটিলতার মধ্যে লিভার ও কিডনি সমস্যা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিসসহ নানা ধরনের সংক্রমণজনিত অসুস্থতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে এবং মাতৃকূলের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ী এলাকায়। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল খালেদা খানম, তবে পরিবারের কাছে তিনি ‘পুতুল’ নামেই পরিচিত ছিলেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি সেন্ট যোসেফ কনভেন্টে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন পরিপাটি ও রুচিশীল। পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যবোধ ছিল তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফুল ভালোবাসতেন এবং নিজের আশপাশ সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করতেন যার প্রতিফলন তার সার্বিক জীবনযাপনেও দেখা গেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন।