Site icon দৈনিক টার্গেট

সাইবার হামলার প্রতিবাদে বঙ্গভবনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট হ্যাক করে নারী বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রকাশের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে দলটির একটি প্রতিনিধি দল।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রতিনিধি দলটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে উপস্থাপন করে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

জানা গেছে, প্রতিনিধি দলটি বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে (১৬৫২ ঘটিকা) বঙ্গভবনে প্রবেশ করে এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে (১৭৫৭ ঘটিকা) আলোচনা শেষে বঙ্গভবন থেকে প্রস্থান করে। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, একটি সুপরিকল্পিত সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে আমীরে জামায়াতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাউন্ট হ্যাক করা হয় এবং এ ঘটনায় একটি সরকারি ইমেইল আইডি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।

ঘটনার পটভূমি

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল ও ভেরিফায়েড এক্স একাউন্টে তাঁর বা তাঁর মনোনীত এডমিনদের অনুমতি ও অজান্তে বিভ্রান্তিকর একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়। উক্ত পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, ওই সময় আমীরে জামায়াত কেরানীগঞ্জে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য প্রদান করছিলেন। ফলে তাঁর পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সরাসরি উক্ত পোস্ট প্রকাশ করা বা অনুমোদনের কোনো সুযোগ ছিল না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দলটির আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি টিম দ্রুত তদন্ত শুরু করে।

সন্দেহজনক ই-মেইল ও ম্যালওয়্যার আক্রমণ

অভিযোগে আরও জানানো হয়, আমীরে জামায়াতের এক্স হ্যান্ডেল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহৃত হয়, সেখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একটি দাপ্তরিক ই-মেইল ঠিকানা থেকে “কেস স্টাডি ইলেকশনের” মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়। উক্ত ই-মেইলের সঙ্গে একটি ফাইল সংযুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বিশ্লেষণে ম্যালিসিয়াস হিসেবে চিহ্নিত হয়।

আইটি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, সংযুক্ত ফাইলটির ভেতরে ম্যাক্রো এবং ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার কোড লুকানো ছিল। ফাইলটি ওপেন করার পর ম্যাক্রো সক্রিয় হয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম চালু হয়, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে অবৈধ প্রবেশাধিকার অর্জন করা হয়। এর ফলেই এক্স একাউন্টের নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে হ্যাকারদের হাতে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

দ্রুত নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার

বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে বিষয়টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ক্যাম্পেইন টিমের নজরে আসে। পরবর্তীতে আইটি টিম অন্যান্য এডমিনদের সঙ্গে সমন্বয় করে যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হয় যে, একাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকেল ৫টা ০৯ মিনিটে একাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয় এবং এর মাধ্যমে একাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।

এরপর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আমীরে জামায়াতের অফিসিয়াল এক্স একাউন্ট থেকে একটি জরুরি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয় যে, একাউন্টটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে এবং পূর্বে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ভাইরাল বিভ্রান্তি ও সামাজিক ক্ষতি

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হ্যাকাররা উক্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে আমীরে জামায়াতের ব্যক্তিগত সম্মান, সামাজিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তির মারাত্মক ক্ষতি হয়।

এছাড়া, প্রকাশিত কনটেন্টে নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য থাকায় নারীর সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নও সামনে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দলটির মতে, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু ব্যক্তিকে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ক্ষতির মুখে ফেলে।

বঙ্গভবনে প্রতিনিধি দলের অভিযোগ

প্রতিনিধি দলটি বঙ্গভবনে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে। আলোচনায় তারা অভিযোগ করেন যে, উক্ত সাইবার আক্রমণে assistantprogrammer@bangabhaban.gov.bd নামে একটি সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর ও গুরুতর করে তুলেছে।

তাদের ভাষ্যমতে, যদি কোনো সরকারি ই-মেইল সত্যিই এ ধরনের সাইবার হামলায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা

বঙ্গভবনে উপস্থিত প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন-

১. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম।

২. জনাব মাহমুদুর রহমান, সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

৩. জনাব তালহা ইবনে আলাউদ্দিন, সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

৪. জনাব নাজমুল হোসেন, সেন্ট্রাল আইটি ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম।

দাবি ও প্রত্যাশা

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়-

এই ঘটনাকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত করা, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত পরিচালনা করা, সাইবার আক্রমণের সঙ্গে জড়িত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা।

প্রতিনিধি দলটি আশা প্রকাশ করে বলে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

WhatsApp

আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন

ফলো করুন
Exit mobile version