বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীতে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকাল ৪টায় শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইট পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আয়োজকরা জানান, সম্প্রতি ছাত্রদল কর্তৃক দেওয়া উগ্র ও উত্তেজনামূলক স্লোগানে ছাত্রশিবিরকে হত্যাযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর প্রতিবাদ জানাতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু ভিন্নমত দমন বা কোনো সংগঠনকে হত্যাযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী। তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহিংসতায় রূপান্তরিত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, যিনি এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সাদিক কাইয়ুম এবং এস এম ফরহাদ উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, দেশের ছাত্রসমাজ আজ একটি কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সহিংস স্লোগান বা হুমকি দিয়ে দমন করার প্রবণতা ছাত্ররাজনীতিকে অশান্ত করে তুলছে। এ ধরনের আচরণে শিক্ষা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তারা রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল আচরণের আহ্বান জানান।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ছাত্রশিবির সর্বদা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি লালন করে আসছে। আমরা সহিংসতার মাধ্যমে নয়, যুক্তি, আদর্শ ও সংগঠিত কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন আনতে চাই। ছাত্রদলের উগ্র স্লোগান কেবল ঘৃণা ও বিভাজন বাড়াচ্ছে, যা কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অপমানজনক বা হত্যাযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা দেশের জন্য ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সমাবেশ শেষে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও যেকোনো উগ্র আচরণের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।