ইমিকে সমর্থন, তোপের মুখে তাসনিম জারা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৭১ বার পঠিত হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টকে কেন্দ্র করে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির বিষয়ে অবস্থান নেওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে তাকে কটাক্ষ ও রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মতভিন্নতাকে সহজভাবে নেওয়ার প্রবণতা এখনও তৈরি হয়নি। বরং কাউকে নির্দিষ্ট কোনো আদর্শের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে আক্রমণ করার সংস্কৃতি আরও জোরালো হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের সময়ও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। সে সময় একটি সহিংস স্লোগানের বিরোধিতা করায় তাকে ‘জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্যও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাসনিম জারা।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইমির একটি পোস্ট শেয়ার করার পর নতুন করে তাকে ‘শাহবাগী’, ‘বামপন্থি’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। অথচ অতীতে যারা একই ধরনের আচরণের শিকার ছিলেন, এখন তাদেরই কেউ কেউ একই পদ্ধতি অনুসরণ করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইমির বিষয়ে তাসনিম জারা বলেন, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার কারণে তার একাডেমিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন তিনি। আইনগত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল না বলেও মত দেন তিনি।

তাসনিম জারা আরও বলেন, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে প্রতিশ্রুতি অভ্যুত্থানের পর দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ভিন্নমত বা সমালোচনাকে গ্রহণ না করে উল্টো ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপন্থা মানে আদর্শহীনতা নয়; বরং মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তার যুক্তি, আচরণ ও কাজকে মূল্যায়ন করার মানসিকতা। কাউকে শুধুমাত্র মতপার্থক্যের কারণে ‘দেশবিরোধী’, ‘নাস্তিক’ বা ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তাসনিম জারা বলেন, ভিন্নমত থাকলেও ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে অবস্থান নেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ করাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে দমন করার সংস্কৃতি সমাজের জন্য অশুভ সংকেত বহন করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইমিকে সমর্থন, তোপের মুখে তাসনিম জারা

প্রকাশ: ০৫:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টকে কেন্দ্র করে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির বিষয়ে অবস্থান নেওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে তাকে কটাক্ষ ও রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মতভিন্নতাকে সহজভাবে নেওয়ার প্রবণতা এখনও তৈরি হয়নি। বরং কাউকে নির্দিষ্ট কোনো আদর্শের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে আক্রমণ করার সংস্কৃতি আরও জোরালো হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের সময়ও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। সে সময় একটি সহিংস স্লোগানের বিরোধিতা করায় তাকে ‘জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্যও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাসনিম জারা।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইমির একটি পোস্ট শেয়ার করার পর নতুন করে তাকে ‘শাহবাগী’, ‘বামপন্থি’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। অথচ অতীতে যারা একই ধরনের আচরণের শিকার ছিলেন, এখন তাদেরই কেউ কেউ একই পদ্ধতি অনুসরণ করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইমির বিষয়ে তাসনিম জারা বলেন, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার কারণে তার একাডেমিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন তিনি। আইনগত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল না বলেও মত দেন তিনি।

তাসনিম জারা আরও বলেন, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে প্রতিশ্রুতি অভ্যুত্থানের পর দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ভিন্নমত বা সমালোচনাকে গ্রহণ না করে উল্টো ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপন্থা মানে আদর্শহীনতা নয়; বরং মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তার যুক্তি, আচরণ ও কাজকে মূল্যায়ন করার মানসিকতা। কাউকে শুধুমাত্র মতপার্থক্যের কারণে ‘দেশবিরোধী’, ‘নাস্তিক’ বা ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তাসনিম জারা বলেন, ভিন্নমত থাকলেও ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে অবস্থান নেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ করাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে দমন করার সংস্কৃতি সমাজের জন্য অশুভ সংকেত বহন করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।