সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমবারের মতো জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সাত দফা দাবিতে অংশ নিচ্ছেন লাখো কর্মী-সমর্থক

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:২৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • ৩৫৭ বার পঠিত হয়েছে

স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছরে প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক ও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় সমাবেশ। “ইতিহাস রচনার প্রত্যয়” নিয়ে আয়োজিত এ সমাবেশকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় বিরাজ করছে বিশেষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনা।

সারা দেশ থেকে দলটির লাখো কর্মী-সমর্থক অংশ নিতে ঢাকায় এসে উপস্থিত হয়েছেন। আয়োজকরা জানান, অংশগ্রহণকারী সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের সর্ববৃহৎ জনসমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত এ সমাবেশ থেকে উপস্থাপন করা হবে সাতটি মৌলিক দাবি। এর মধ্যে প্রধান দুটি হলো: সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচার ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন।

সমাবেশস্থলের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনাঃ

গত এক মাস ধরে চলা প্রস্তুতির পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সমাবেশের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থাপন করা হয়েছে ৫০০-এরও বেশি অস্থায়ী টয়লেট এবং ১,০০০ পানির কল। অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে ৬০০ আসনের বিশাল মঞ্চ এলাকা এবং সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৫০টি এলইডি স্ক্রিন।

নিরাপত্তায় রয়েছে ৬,০০০ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, গঠিত হয়েছে ৮টি উপকমিটি ও একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল।ঢাকার বাইরে থেকে আগতদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ১০,০০০ ভাড়াকৃত বাস এবং বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও ময়মনসিংহ রুটে।

উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহঃ

১. সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ভিত্তিক (PR) নির্বাচন পদ্ধতি প্রবর্তন।

২. ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার দোষীদের বিচারের আওতায় আনা ও শহীদ পরিবার পুনর্বাসন।

৩. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা।

৪. জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থগিত রাখা।

৫. প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটাধিকার বাস্তবায়ন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য ও নেতৃত্বের ভাষ্যঃ

জামায়াত নেতারা এই সমাবেশকে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আন্দোলনের প্রারম্ভ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দলের মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন- এটি শুধু একটি সমাবেশ নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রথম ধাপ।

নাগরিক জীবন ও প্রভাবঃ

সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কিছু এলাকায় যানজট ও চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার্থীদের আগেভাগে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সমাবেশজনিত অসুবিধার জন্য নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জামায়াত নেতারা।

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটঃ

দলটি মনে করে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে যে রাজনৈতিক পরিসর সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তারা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এ ধরনের বৃহৎ আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে।

মূল সমাবেশ শুরু হবে দুপুর ২টায়। তবে সকাল ১০টা থেকেই কুরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। সমাবেশের শেষ অংশে জামায়াত আমিরের “ঐক্যের ডাক” এবং “কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা” দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমবারের মতো জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সাত দফা দাবিতে অংশ নিচ্ছেন লাখো কর্মী-সমর্থক

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে

প্রকাশ: ১২:২৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছরে প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক ও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় সমাবেশ। “ইতিহাস রচনার প্রত্যয়” নিয়ে আয়োজিত এ সমাবেশকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় বিরাজ করছে বিশেষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনা।

সারা দেশ থেকে দলটির লাখো কর্মী-সমর্থক অংশ নিতে ঢাকায় এসে উপস্থিত হয়েছেন। আয়োজকরা জানান, অংশগ্রহণকারী সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের সর্ববৃহৎ জনসমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত এ সমাবেশ থেকে উপস্থাপন করা হবে সাতটি মৌলিক দাবি। এর মধ্যে প্রধান দুটি হলো: সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচার ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন।

সমাবেশস্থলের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনাঃ

গত এক মাস ধরে চলা প্রস্তুতির পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সমাবেশের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থাপন করা হয়েছে ৫০০-এরও বেশি অস্থায়ী টয়লেট এবং ১,০০০ পানির কল। অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে ৬০০ আসনের বিশাল মঞ্চ এলাকা এবং সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৫০টি এলইডি স্ক্রিন।

নিরাপত্তায় রয়েছে ৬,০০০ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, গঠিত হয়েছে ৮টি উপকমিটি ও একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল।ঢাকার বাইরে থেকে আগতদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ১০,০০০ ভাড়াকৃত বাস এবং বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও ময়মনসিংহ রুটে।

উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহঃ

১. সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ভিত্তিক (PR) নির্বাচন পদ্ধতি প্রবর্তন।

২. ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার দোষীদের বিচারের আওতায় আনা ও শহীদ পরিবার পুনর্বাসন।

৩. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা।

৪. জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থগিত রাখা।

৫. প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটাধিকার বাস্তবায়ন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য ও নেতৃত্বের ভাষ্যঃ

জামায়াত নেতারা এই সমাবেশকে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আন্দোলনের প্রারম্ভ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দলের মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন- এটি শুধু একটি সমাবেশ নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রথম ধাপ।

নাগরিক জীবন ও প্রভাবঃ

সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কিছু এলাকায় যানজট ও চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার্থীদের আগেভাগে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সমাবেশজনিত অসুবিধার জন্য নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জামায়াত নেতারা।

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটঃ

দলটি মনে করে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে যে রাজনৈতিক পরিসর সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তারা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এ ধরনের বৃহৎ আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে।

মূল সমাবেশ শুরু হবে দুপুর ২টায়। তবে সকাল ১০টা থেকেই কুরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। সমাবেশের শেষ অংশে জামায়াত আমিরের “ঐক্যের ডাক” এবং “কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা” দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।