ঢাকা বিএনপিতে নেতৃত্ব বদলের ইঙ্গিত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:১৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৭৬ বার পঠিত হয়েছে

রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। যদিও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, তবুও নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে দলটির ভেতরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে দলটি।

দলীয় নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মহানগর রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ঢাকা মহানগরের কয়েকজন নেতা সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া তিন নারী নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য হওয়ায়ও নেতৃত্বের ভারসাম্যে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

গত ৯ মে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠনের ইঙ্গিতও দেন তিনি। এরপর থেকেই মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

দলীয় সূত্র জানায়, শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর বিএনপিই নয়, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে। এ নিয়ে সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসার চেষ্টাও করছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন আমিনুল হক, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মামুন হাসান, শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং এবিএম আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন।

তবে তৃণমূলের একটি বড় অংশ এখনো আমিনুল হকের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখছে বলে জানা গেছে। নেতাকর্মীদের দাবি, তার নেতৃত্বে মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠনে তার সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করছেন তারা।

অন্যদিকে, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনও আলোচনায় রয়েছেন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঢাকা-১৮ আসনের প্রতিনিধি হওয়ায় দলীয় কৌশলেও তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা মামুন হাসানও সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন। মামলা, হামলা ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা তাকে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে বলে মনে করছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতেই বিএনপি নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

ঢাকা বিএনপিতে নেতৃত্ব বদলের ইঙ্গিত

প্রকাশ: ১২:১৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। যদিও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, তবুও নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে দলটির ভেতরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে দলটি।

দলীয় নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মহানগর রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ঢাকা মহানগরের কয়েকজন নেতা সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া তিন নারী নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য হওয়ায়ও নেতৃত্বের ভারসাম্যে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

গত ৯ মে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠনের ইঙ্গিতও দেন তিনি। এরপর থেকেই মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

দলীয় সূত্র জানায়, শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর বিএনপিই নয়, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে। এ নিয়ে সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসার চেষ্টাও করছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন আমিনুল হক, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মামুন হাসান, শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং এবিএম আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন।

তবে তৃণমূলের একটি বড় অংশ এখনো আমিনুল হকের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখছে বলে জানা গেছে। নেতাকর্মীদের দাবি, তার নেতৃত্বে মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠনে তার সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করছেন তারা।

অন্যদিকে, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনও আলোচনায় রয়েছেন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঢাকা-১৮ আসনের প্রতিনিধি হওয়ায় দলীয় কৌশলেও তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা মামুন হাসানও সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন। মামলা, হামলা ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা তাকে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে বলে মনে করছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতেই বিএনপি নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।